

রাজধানীতে আধিপত্য বিস্তার, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং গরুর হাটের ইজারাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি যেকোনো সময় সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুবদলের একাংশের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকটি গ্রুপের বিরোধ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নের অনুসারীদের সঙ্গে এসব গ্রুপের দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে।
এছাড়া যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নের অনুসারীদের বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংক, সময় টিভি, পিপলস লিজিংসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
একাধিক ব্যবসায়ীর দাবি, বর্তমানে ‘মুন্না-নয়ন’ নামটি ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা মনে করছেন, রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই নানা গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। বর্তমানে গরুর হাটের ইজারা ও বড় ঠিকাদারি কাজের টেন্ডার বণ্টনকে ঘিরে দ্বন্দ্ব আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ক্যাপ্টেন ইমন’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির কথিত একটি কল রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে কথা বলতে শোনা যায়। তবে অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
এদিকে গুঞ্জন রয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি বিদেশে কয়েকটি পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন" উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনে যাচ্ছে ববি
কয়েকদিন আগে রাজধানীতে আলোচিত টিটন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বসিলা এলাকার গরুর হাটের ইজারা নিয়ে বিরোধের বিষয়টিও সামনে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। নিহতের পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ‘পিচ্চি হেলাল’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির সঙ্গে এ নিয়ে মতবিরোধ ছিল। তবে টিটন পরিবারকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে বিষয়টি মিটে যাবে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও তদন্তাধীন রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির এক নেতা বলেন, সাধারণ ব্যবসায়ীরা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর হস্তক্ষেপ চান।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
ডিএমপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।