spot_img

― Advertisement ―

spot_img

রাষ্ট্র সংস্কার ও শাসনব্যবস্থা পুনর্গঠনের বার্তা দিয়ে জামাতের ইশতেহার

নির্বাচনী ইশতেহারে জামাতের অঙ্গীকার পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র সংস্কার ও শাসনব্যবস্থা পুনর্গঠন। প্রকাশিত দলীয় ইশতেহারে রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক কাঠামো থেকে শুরু করে বিচার বিভাগ, নির্বাচন ব্যবস্থা,...
প্রচ্ছদকলামশেখ হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক বছর : অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও...

শেখ হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক বছর : অর্জন, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ

গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার পতন ঘটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। আন্দোলনের গতি পায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদের শাহাদাতের মাধ্যমে, যিনি পুলিশের গুলিতে নিহত হন। এরপর ছাত্ররা শিক্ষার্থীদের অধিকার ও ন্যায়ের দাবি পাশাপাশি শহীদ শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য বিচারের জন্য বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলে, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।

আন্দোলনের চাপে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনরোষ থেকে বাঁচতে পদত্যাগ করে ভারতে পালাতে বাধ্য হন এবং পরবর্তীতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। এই সরকারের উদ্দেশ্য ছিল সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন, দুর্নীতি দমন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, প্রশাসনিক সংস্কার ও দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাসহ দুর্নীতি রোধে পর্যাপ্ত সংস্কার।

গত এক বছরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে বাধাগ্রস্ত বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন গতি আসে। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি গ্রেফতার হন, যা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

তবে সরকারকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক মন্দা, কর্মসংস্থান সংকট, বিনিয়োগে ধীরগতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস ও ক্ষমতার লড়াই দেশের স্থিতিশীলতাকে বারবার হুমকির মুখে ফেলেছে।

আরও পড়ুনঃ ঢাকার যেসব এলাকায় রাত ১২টা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালালেও বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রত্যাশিত হারে আসেনি। তবে মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে।

এক বছরের এই যাত্রা প্রমাণ করেছে যে, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও সুশাসন নিশ্চিত করা দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যা শুধু রাজনৈতিক সদিচ্ছা নয়, বরং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও আস্থার ওপর নির্ভর করে। এখন দেশবাসী অপেক্ষা করছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের প্রতিশ্রুতি কতটা পূরণ করতে পারে এবং একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিক নির্ধারণ করতে পারে কিনা।

ইউনুস রিয়াজ
সাংবাদিক ও এক্টিভিস্ট