
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল নতুন এক মানবিক রাষ্ট্র গঠনের। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দমন–পীড়ন, বাকস্বাধীনতা হরণ, পেশিশক্তির প্রদর্শন, নিপীড়ন–নির্যাতনের অবসান ঘটবে— এই আশা ছিল ছাত্র–জনতার। কিন্তু ক্ষমতার পরিবর্তনের পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে যেভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর হোন্ডা মহড়া, গাড়িবহর, আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, তাতে জনমনে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ।
মানুষ প্রশ্ন তুলছে— তাহলে ছাত্র–জনতার আন্দোলন, দুই হাজার প্রাণের বিনিময়, পঞ্চাশ হাজারের বেশি মানুষ আহত হওয়া— এসব সংগ্রামের মূল্য কী পেলাম? একই পেশিশক্তির প্রদর্শন, একই দাপট, একই ভীতি— শুধু রঙ বদলেছে; চরিত্র বদলায়নি।
হাসিনা পতনের দিনগুলোতে বিভিন্ন থানায় অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, অস্ত্র হারানো ও লুট হওয়ার যে ঘটনা ঘটেছে, সেসব অস্ত্র উদ্ধারে এখনো দৃশ্যমাণ কোনো বড় ধরনের অভিযান দেখা যায়নি। স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক নেতাদের আক্রমণাত্মক আচরণ দেখে সাধারণ মানুষের ধারণা, তাদের হাতে প্রচুর অস্ত্র, অবৈধ অর্থ এবং আগামীর ক্ষমতা লাভের লোভ তাদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র ও অবৈধ অর্থের সঠিক নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছে স্থানীয় দুষ্কৃতকারীদের তালিকা আছে— অতীতে যেভাবে তারা কঠোরভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে তা জনগণ আজও প্রশংসার সঙ্গে স্মরণ করে।
আরও পড়ুনঃ মাদক নির্মূলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন— এমন ঘোষণা দিয়েছেন সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনুস। তারিখ এখনো নির্দিষ্ট না হলেও সময় হাতে রয়েছে মাত্র ২ থেকে ৩ মাস। স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ছে, সাথে বাড়ছে ভয় ও উৎকণ্ঠা। একই দলের একাধিক গ্রুপ, ভিন্নমত, মিছিলে অংশ নেওয়া নিয়ে চাপ— সব মিলিয়ে সাধারণ কর্মীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।
রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও রাজনৈতিক শিক্ষার ঘাটতিই যেন এখন সর্বাধিক প্রকট। বিশ্লেষকদের দাবি— দলগুলো যদি তাদের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।
জনগণ মুখিয়ে আছে তাদের যোগ্য প্রতিনিধিকে ভোট দেওয়ার জন্য, কিন্তু প্রশ্নও বাড়ছে— নির্বাচন কি সঠিক সময়ে হবে? ভোটকেন্দ্রে গিয়ে কি ভোট দিতে পারব? নাকি প্রভাবশালীদের হুমকি–ধামকিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন আবারও দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে?
মানুষ অপেক্ষা করছে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়সঙ্গত এবং সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের— যা সত্যিকার অর্থেই নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি স্থাপন করতে পারে।
লেখকঃ শেখ নজরুল ইসলাম,
সাংবাদিক ও কলামিস্ট



