

বাংলাদেশের পোশাক শিল্প কোনো একক খাত নয়, এটি দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। প্রায় চার কোটির বেশি মানুষের জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। লাখ লাখ শ্রমিকের রুটি-রুজি নির্ভর করছে এই খাতের ওপর। অথচ রাজনৈতিক কর্মসূচি ও নির্বাচনী অর্থ সংগ্রহের নামে চাঁদাবাজি, হুমকি এবং মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগে আজ এই শিল্প মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
যদি রাজনীতি সত্যিই জনগণের জন্য হয়ে থাকে, তবে সেই জনগণের জীবন-জীবিকা—বিশেষ করে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা কতটা নৈতিক, সে প্রশ্ন আজ বড় হয়ে উঠেছে। নির্বাচন করার ইচ্ছা রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব বিষয় হলেও তার অর্থের বোঝা ব্যবসায়ীদের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া অন্যায়।
নিজের উপার্জিত অর্থে নির্বাচন করার সাহস দেখানোর আহ্বান জানাই, হুমকি ও মামলার ভয় দেখিয়ে ব্যবসায়ীদের চুপ করিয়ে রাখা দীর্ঘদিন সম্ভব নয়।
পোশাক শিল্প বন্ধ হয়ে গেলে দেশের অর্থনীতি ভয়াবহ সংকটে পড়বে। তখন শুধু ব্যবসায়ী নয়, রাস্তায় নেমে আসবে লাখ লাখ ক্ষুধার্ত শ্রমিক। সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা আদৌ কারও আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রইলো। দেশের অর্থনীতি ধসে পড়লে রাজনীতির জন্য জায়গা খুঁজে পাওয়াও কঠিন হয়ে যাবে।
মাথায় রাখবেন, পোশাক শিল্পের সঙ্গে জড়িত সহায়ক খাতগুলোও একইভাবে বিপদের মুখে পড়বে। এক্সেসরিজ শিল্প—যেখানে কার্টুন, সুতা, বোতাম, জিপার ও পলিসহ নানা উপকরণ তৈরি হয়—সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে পরিবহন খাত, যেখানে কাঁচামাল আনা ও তৈরি পোশাক বন্দরে পৌঁছাতে হাজার হাজার ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ব্যবহৃত হয়, সেখানে মালিক ও চালকদের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হবে।
আরও পড়ুনঃ ফ্যাসিবাদী কায়দায় জুলাই যোদ্ধাদের ফাঁসানোর অভিযোগ, পুলিশের ভাষ্য ‘ডাকাতির প্রস্তুতি’
শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিকদের ঘিরে গড়ে ওঠা স্থানীয় বাজার, বাড়িওয়ালা, মুদি দোকান ও ভাসমান ব্যবসার ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শ্রমিক না থাকলে ব্যাংক ঋণ নিয়ে নির্মিত মেস ও বাসার মালিকরা কিস্তি দিতে ব্যর্থ হবেন। একই সঙ্গে পোশাক খাতকে দেওয়া হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ খেলাপিতে পরিণত হলে পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থাই চাপে পড়বে।
সবার প্রতি আহ্বান, চাঁদাবাজি বন্ধ করে ব্যবসায়ীদের শান্তিতে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। তা না হলে দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা ভয়াবহ সংকটের দিকে এগিয়ে যাবে। দেশের স্বার্থে এখনই এই ধ্বংসাত্মক পথ থেকে সরে আসার সময় বলে তিনি মনে করেন।
লেখকঃ
রুবেল মাহমুদ
ছাত্র, এমবিএ, এন.ইউ