

ঈদের আগের শেষ কর্মদিবসে একটি গার্মেন্টস কারখানার পরিবেশ যেন অন্য এক রূপ নেয়। সকাল থেকেই অফিসে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে উৎসবের আমেজ—কেউ নতুন পোশাকে, কেউ সাজগোজে, আবার কেউবা হাসিমুখে সহকর্মীদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন।
বিশেষ করে সুপারভাইজারদের এক রঙের পাঞ্জাবি পরা দৃশ্যটি যেন একধরনের টিম স্পিরিটের বহিঃপ্রকাশ, যেখানে সবাই মিলে আগাম ঈদ উদযাপনের চেষ্টা চলছে।
তবে আনন্দঘন এই পরিবেশের মাঝেও কিছু বাস্তবতা চোখে পড়ে। নতুন পোশাক ও সাজসজ্জার কারণে অনেক শ্রমিকের ফেস পাঞ্চ ঠিকমতো কাজ করছিল না। প্রায় ১০ জন শ্রমিকের উপস্থিতি রেকর্ডে সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে পাঞ্চ সম্পাদনা করে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়, যাতে কোনো প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি না হয়।
এই আনন্দমুখর মুহূর্তের মধ্যেই এক শ্রমিক কিছুটা বিরক্তি নিয়ে অভিযোগ করেন, পিএ সিস্টেমে বারবার ‘ঈদ মোবারক’ গান বাজানো নিয়ে। তার এই মন্তব্য প্রথমে কিছুটা বিস্ময় তৈরি করলেও পরে স্পষ্ট হয়—সবাই একভাবে ঈদের আনন্দ অনুভব করেন না।
চারপাশে তাকালে দেখা যায়, অনেকেই নতুন পোশাকে এলেও কিছু শ্রমিক এখনও পুরনো পোশাকেই কাজ করছেন।
আরও পড়ুনঃ রায়পুর রিপোর্টার্স ইউনিটির ইফতার মাহফিল সম্পন্ন
তাদের একজনের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, জীবনের দায়-দায়িত্ব আর ঋণের চাপে নতুন পোশাক কেনা তাদের জন্য বিলাসিতা। বরং অনেক সময় দুই বেলার খাবারের চিন্তাই তাদের কাছে বড় হয়ে দাঁড়ায়। তার কথায় ফুটে ওঠে জীবনের কঠিন বাস্তবতা—যেখানে উৎসবের আনন্দও কখনো কখনো ম্লান হয়ে যায় অভাবের চাপে।
এই চিত্র যেন একই স্থানে দুই ভিন্ন বাস্তবতার প্রতিফলন—একদিকে উৎসব, আনন্দ, নতুন পোশাক; অন্যদিকে দায়বদ্ধতা, ঋণ আর নীরব সংগ্রাম। কারও কাছে ঈদ মানে রঙিন আনন্দ, আবার কারও কাছে তা শুধুই জীবনের কঠিন হিসাব-নিকাশের আরেকটি দিন।
লেখকঃ
রুবেল মাহমুদ
কার্যনির্বাহী (এডমিন অ্যান্ড এইচআর), আয়শা ক্লথিং কম্পানি লিঃ