spot_img

― Advertisement ―

spot_img

পদ্মানদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ জেলের মরদেহ উদ্ধার

মোঃ আব্দুল আলিম, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় পদ্মানদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া জেলে আমিনুল ইসলাম (৫০)-এর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ও...
প্রচ্ছদসারা বাংলাশিল্পবর্জ্যে নষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জের পরিবেশ: প্রশাসনের নীরবতায় বাড়ছে দুর্ভোগ

শিল্পবর্জ্যে নষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জের পরিবেশ: প্রশাসনের নীরবতায় বাড়ছে দুর্ভোগ

মোঃ আব্দুল আলিম, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহার এলাকায় প্রতিদিন গভীর রাতে চলছে এক অদৃশ্য ‘দূষণের খেলা’ শিল্পবর্জ্যে নষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নাবা পোল্ট্রি ফার্মের নিয়োগপ্রাপ্ত ঠিকাদাররা নিয়মিত ট্রাকভর্তি মুরগির বিষ্ঠা ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলে যাচ্ছেন সেখানে। এতে আশপাশের ফসলি জমি ও পরিবেশ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তীব্র দুর্গন্ধে বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়ছে এলাকা, কৃষিকাজও ব্যাহত হচ্ছে।

শনিবার (৮ মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঝিলিম ইউনিয়নের দক্ষিণ শহর গ্রাম ও রাঁধুনীডাঙ্গা ছোট পাইকোড়তলা সড়কের পাশে কৃষি জমিতে স্তূপ করে ফেলা হয়েছে মুরগির বিষ্ঠা। স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন আগেও এ ধরনের একটি ট্রাক ধরা হয়েছিল এবং এর ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। তারা দাবি করেন, এসব বর্জ্য রাজশাহীর নাবা পোল্ট্রি ফার্ম থেকে আনা হয় এবং পরিবহনের জন্য নাবিল গ্রুপের গাড়ি ব্যবহার করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রাজমিস্ত্রী জানান, প্রতিদিন রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে ট্রাকযোগে এই বর্জ্য ফেলা হয়। স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখেও দুষ্কৃতকারীরা নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “কয়েকদিন আগে গাড়ির লোকজনকে ধরেছিলাম, কিন্তু তাদের হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল। আমরা প্রাণের ভয়ে চুপ থাকি। কিন্তু দুর্গন্ধে চলাফেরা করা দায় হয়ে গেছে।”

এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, কৃষি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, পানির রঙ পরিবর্তন হচ্ছে, পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়ছে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, এভাবে খোলা জায়গায় শিল্পবর্জ্য ফেলা দণ্ডনীয় অপরাধ। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবেশের ক্ষতি করলে শাস্তির বিধান রয়েছে। ফৌজদারি দণ্ডবিধির ২৬৮ ও ২৭৭ ধারা অনুযায়ী, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পরিবেশ তৈরি করা অপরাধ, যা জরিমানা বা কারাদণ্ডের আওতায় পড়ে। কিন্তু আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় দূষণ অব্যাহত রয়েছে। পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কৃষি, পানি ও জনস্বাস্থ্য ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়বে।

আরও পড়ুনঃ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বহ্নিশিখা-গ্রীন ভয়েসের র‍্যালি ও আলোচনা সভা

এদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আবু সাঈদ জানান, এ বিষয়ে লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগ পাননি। তবে, তিনি উল্লেখিত এলাকায় পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. তাছমিনা খাতুন বলেন, “এমন কোনো বিষয় কেউ অবগত করেনি। তবে, ভুক্তভোগীরা সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ দিলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব।”

এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলা বন্ধ হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমির পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়।