
মোঃ সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহীতে একটি বেসরকারি ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে পুলিশি হস্তক্ষেপ, ভয়ভীতি ও রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। দামকুড়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ শুধু প্রশাসনিক সীমা অতিক্রমই নয়, বরং একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনেরও দৃষ্টান্ত বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতনরা।
ভাটাপাড়া এলাকার বাসিন্দা বিপ্লব জানান, চার মাস আগে তাঁর স্ত্রী আয়েশা আক্তার কাশিয়াডাঙ্গার পাশে অবস্থিত ‘রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশন’ (RRF) নামের একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ নেন পারিবারিক খামার পরিচালনার জন্য। চুক্তি অনুযায়ী মাসিক কিস্তির পরিমাণ ছিল ২০ হাজার টাকা। তবে পারিবারিক সংকটে তাঁরা তিন মাসে যথাক্রমে ৮, ১০ ও ৫ হাজার টাকা করে পরিশোধ করতে সক্ষম হন।
পরবর্তী সময়ে সংস্থাটি প্রথমে আয়েশা আক্তার এবং পরে জামিনদার শাকিলের নামে উকিল নোটিশ পাঠায়। এরই মধ্যে সংস্থাটির ম্যানেজার রাকিব নামের এক ব্যক্তি দামকুড়া থানার এএসআই সুলতানা পারভীনের মাধ্যমে পুলিশি চাপ প্রয়োগ শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন বিপ্লব। অভিযোগ রয়েছে, সুলতানা পারভীন একাধিকবার তাকে থানায় নয়, জনসমাগমপূর্ণ সিতলাবাজারে দেখা করতে বলেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিপ্লব নিজে থানায় গিয়ে অবস্থান ব্যাখ্যা করেন এবং জানান, কিছু সময়ের মধ্যে ঋণের বাকি টাকা পরিশোধ করবেন।
তবে বিষয়টি এখানেই থেমে থাকেনি। অভিযোগ রয়েছে, এএসআই সুলতানা পারভীন পরে তার স্ত্রী ও জামিনদারকেও একাধিকবার ফোন করে ভয়ভীতি দেখান।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকরা সুলতানা পারভীনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শুরুতে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে বলেন, “লোন অফিসার আমার পরিচিত ছিলেন, তাই হস্তক্ষেপ করেছিলাম। এটা আমার ভুল ছিল, আমি দুঃখিত।”
আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো—লোন প্রতিষ্ঠানটি দাবি করলেও থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগের কোনো কপি দেখাতে পারেনি। দামকুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, “আমি আজকেই বিষয়টি জেনেছি। কোনো মৌখিক বা অনুপযুক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো অফিসার যেন হস্তক্ষেপ না করে, সে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
আরও পড়ুনঃ মাইলস্টোন ট্রাজেডি: তিতুমীর কলেজ ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল
এই ঘটনার চেয়েও উদ্বেগজনক দিক হলো—স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও দামকুড়া থানা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক কনক অভিযোগটির সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে ফোন করে চাপ প্রয়োগ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় সচেতনমহল বলছে, বিষয়টি শুধু আইনগত অনিয়ম নয়, বরং প্রশাসন ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ। একজন পুলিশ কর্মকর্তা কীভাবে থানার এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করতে পারেন এবং কেন একজন রাজনৈতিক নেতাকে দিয়ে সংবাদ দমন করানোর অপচেষ্টা চালানো হলো—এসব প্রশ্নের জবাব এখন সময়ের দাবি।
তারা আরও বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে এ ধরনের ঘটনা দেশের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করবে। স্থানীয়রা মনে করছেন, বিষয়টি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।



