
মোঃ সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহী নগরীর খুলিপাড়া এলাকায় প্রশাসনের একাধিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পুকুর ভরাটের নতুন করে চেষ্টা চালানোয় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিএনপির হাইব্রিড নেতা পরিচিত এস এম এখলাস আহেমদ রমি দীর্ঘদিন ধরে ধাপে ধাপে পুকুরটি ভরাট করছেন।
এর আগে পুকুর ভরাটের প্রাথমিক প্রচেষ্টা এলাকাবাসী প্রতিহত করলে স্থানীয় উন্নয়নমূলক যুব সংগঠন ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ (ইয়্যাস)-এর সহযোগিতায় গত ৭ মার্চ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এসে ভরাট বন্ধে নির্দেশ দেন। পরে সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে কয়েক দফায় ভরাট বন্ধ হলেও পুনরায় রাতের আঁধারে নতুন কৌশলে মাটি ফেলে জলাধার দখলের চেষ্টা চালানো হয়। সর্বশেষ ২ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে পূজা উদযাপনের ব্যস্ততাকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে আবারও ভরাট শুরু করা হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রমি শুধু পুকুর ভরাটেই সীমাবদ্ধ নন। তার বিরুদ্ধে বাঘা উপজেলায় অবৈধ বালু উত্তোলন, টিকাপাড়া গোরস্থানের সামনে গাঁজা সেবন ও গাঁজার আড্ডা বসানোসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নগরীর পুকুর ভরাট ও নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন জলাশয় রক্ষা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর, জীববৈচিত্র্য এবং কৃষি পরিবেশের জন্য ভয়াবহ হুমকি সৃষ্টি করছে। এতে নগরীতে জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন এবং দীর্ঘমেয়াদে পানির সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঘটনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা রমির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সরাসরি জবাব না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তোলেন এবং দাবি করেন, “বাসার সামনে কোনো ডেভেলপার কাজ করছে, বিস্তারিত পরে বলতে পারব।”
আরও পড়ুনঃ রামগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ালেন স্মার্ট টেকনোলজির চেয়ারম্যান
এ বিষয়ে বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুলিশ বর্তমানে নিরাপত্তার দায়িত্বে ব্যস্ত রয়েছে। তিনি জানান, লিখিত অভিযোগ বা তথ্য পাওয়া গেলে পুলিশ অস্থায়ীভাবে ভরাট বন্ধে সহযোগিতা করবে। তবে আইনি ব্যবস্থা নেবে ভূমি অফিস।
রাতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আরিফ হোসেন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ কবির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসী ও ইয়্যাস সংগঠন প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে ভরাট কার্যক্রম বন্ধ, অভিযুক্ত রমির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জলাশয় ও নদী রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, অব্যাহত জলাশয় দখল নগরীর পরিবেশ ও নাগরিক জীবনে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে।



