

বিশেষ প্রতিনিধিঃ রাজধানীর অদূরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় জমি দখল, আর্থিক জালিয়াতি, ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারি ও প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার অভিযোগে আলোচনায় রয়েছেন রংধনু গ্রুপের মালিক মো. রফিকুল ইসলাম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি, জমি দখল এবং অর্থ আদায়ের মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন তিনি ও তার সহযোগীরা। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এক সময় সীমিত আয়ের জীবনযাপন করলেও অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠেন রফিকুল ইসলাম। ছোট ব্যবসা থেকে শুরু করে তিনি গড়ে তোলেন রংধনু গ্রুপ নামে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। তবে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, এই উত্থানের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার ব্যবহার ছিল।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন ব্যাংক থেকে শত শত কোটি টাকার ঋণ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের বারিধারা শাখা থেকে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের বসুন্ধরা শাখা থেকে প্রায় ২৭০ কোটি টাকা এবং ইউনিয়ন ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
প্রতারণা ও অর্থপাচারের অভিযোগে রফিকুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং মামলা দায়ের করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট গুলশান থানায় দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এর ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট তদন্ত করছে।
তদন্তে রাজধানীর বনানীতে একটি ৯ তলা ভবনের তথ্য উঠে আসে, যেখানে একটি হোটেল পরিচালিত হচ্ছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভবনটি কো-অপারেটিভ ব্যাংক অব বাংলাদেশের কাছে জামানত হিসেবে রাখা ছিল। পরে আদালতের নির্দেশে সিআইডি ওই সম্পদ ক্রোক করে এবং সংশ্লিষ্ট অর্থ ফ্রিজ করে।
রফিকুল ইসলামের আর্থিক লেনদেন ও সম্পদের উৎস নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা অনুসন্ধান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এখনো পর্যন্ত এসব সংস্থার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।
আরও পড়ুনঃ অলীক ইউরোপের স্বপ্ন নাকি মৃত্যুর দিগন্ত
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় জমি দখলের ঘটনা ঘটেছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাধিক পরিবার ভয়ে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। একজন বৃদ্ধা নারীর অভিযোগ, তার প্রায় ৩ বিঘা জমি দখলের চেষ্টা করা হয়। চাপের মুখে তিনি নিজের চারতলা বাড়ি তালাবদ্ধ করে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় তিনি দেশত্যাগ করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ফিরে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন এমন গুঞ্জনও রয়েছে। এত অভিযোগের পরও কীভাবে তিনি প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন এ প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে।
রফিকুল ইসলামকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগ এখন তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ হলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।