
মোঃ হাসানুর জামান বাবু, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের পটিয়ায় রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চালানোর অভিযোগে রিয়াদ বিন সেলিম (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ মনিরুজ্জামানের নির্দেশনা এবং পটিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোমান আহমদ পিপিএমের সরাসরি নেতৃত্বে গত ৪ এপ্রিল রাত আনুমানিক ২টার দিকে পটিয়া মডেল থানার একটি চৌকস দল পটিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পাইকপাড়াস্থ নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারের সময় পুলিশ তার কাছ থেকে বেশ কিছু আলামত জব্দ করে। এর মধ্যে রয়েছে তার ছবি সংবলিত একটি আইডি কার্ড, যেখানে ইংরেজিতে “CSF Chairperson’s Security Force, ID No-013, Riyed Salim” লেখা ছিল।
এছাড়া একটি হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর, চার্জারসহ একটি ওয়াকিটকি হ্যান্ডসেট, একটি কালো হাতলবিশিষ্ট সিগন্যাল লাইট, তার ছবি সংবলিত একটি ‘মনিটরিং সেল’ কার্ড, একটি ওয়াকিটকি সদৃশ মোবাইল ফোন এবং একটি আইটেল বাটন মোবাইল সেট জব্দ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রিয়াদ তার ফেসবুক আইডি “Lion Riyadh Selim”-এ সরকারের শীর্ষ ব্যক্তি ও মন্ত্রীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ছবি পোস্ট করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও প্রতারিত করতেন। প্রাথমিকভাবে এসব ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল শাখার ভুয়া আইডি কার্ড তৈরি করে তদবির বাণিজ্য চালানোর অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
মামলার বাদী মোঃ কামরুল হাসান অভিযোগ করেন, তিনি জেলহাজতে থাকাকালে রিয়াদ তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে সম্পর্ক থাকার কথা বলে দ্রুত জামিন করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ প্রলোভনে প্রথমে বিকাশে ১৫ হাজার ৩০০ টাকা এবং পরে নগদ ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। এ অভিযোগের ভিত্তিতে পটিয়া থানায় মামলা নং-০৬, তারিখ ০৫/০৪/২০২৬, পেনাল কোডের ৪১৭, ৪১৯, ৪২০, ৪০৬, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন
পুলিশের রেকর্ড পর্যালোচনায় দেখা গেছে, রিয়াদের বিরুদ্ধে পূর্বেও নারী নির্যাতন ও মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সিএমপি আকবরশাহ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা এবং চান্দগাঁও থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আরেকটি মামলা রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে পেনাল কোডের একাধিক ধারায় গ্রেফতারি পরোয়ানাও মূলতবি রয়েছে।
ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে, তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে ‘ট্যাক্স ইন্সপেক্টর’, ‘কন্ট্রোল ও সার্ভার ইনচার্জ’সহ বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নামে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। একই সঙ্গে ভুয়া পার্সেল ডেলিভারির তথ্য দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণও পেয়েছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সার্বিক তথ্য-উপাত্তে প্রতীয়মান হয়েছে যে, রিয়াদ বিন সেলিম দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে আসছিল। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ভুক্তভোগীদের আইনি প্রতিকার নিশ্চিত করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর।



