
মোঃ সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহী মহানগরীর চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি তদারকিতে মাঠে নেমেছেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের(রাসিক) প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে গোরহাঙ্গা রেলক্রসিং ফ্লাইওভারসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণকাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করে তিনি ধীরগতির কাজ ও জনভোগান্তির চিত্রে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনকালে তিনি গোরহাঙ্গা মোড় থেকে শালবাগান এবং সেখান থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত বিভিন্ন অংশে চলমান কাজ পর্যবেক্ষণ করেন। একই সঙ্গে শালবাগান কাঁচাবাজার নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতিও খতিয়ে দেখা হয়।
এ সময় দেখা যায়, নির্মাণ কাজের কারণে সড়কের একটি বড় অংশ দখল করে রাখা হয়েছে। সেখানে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালামাল ও ভারী যন্ত্রপাতি ফেলে রাখায় যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এ অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশাসক সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে আগামী সাত দিনের মধ্যে সড়ক থেকে সব ধরনের মালামাল ও যন্ত্রপাতি সরিয়ে জনসাধারণের জন্য পথ উন্মুক্ত করার কঠোর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ফ্লাইওভারসহ অন্যান্য অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ দ্রুত শেষ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে নগরবাসীর ভোগান্তি দ্রুত কমে আসে।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, নগরীর সার্বিক উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে স্বল্পমেয়াদি ৩০ দিন এবং মধ্যমেয়াদি ৯০ দিনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সড়ক দখল করে মালামাল ফেলে রাখার কারণে নগরবাসী চরম ভোগান্তিতে পড়ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণে দ্রুত এসব অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ইবি শিক্ষিকা হত্যার বিচার চেয়ে শিক্ষকদের মৌন মিছিল
নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনেও বিশেষ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, রেলগেট থেকে নওহাটা পর্যন্ত সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ গড়ার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা কামনা করে প্রশাসক বলেন, পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
পরিদর্শনকালে রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ খায়রুল বাকের, ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহমদ আল মঈন পরাগ, নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান ইমন, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রবিউল আলম মিলুসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ঠিকাদার প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।



