

দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তেজনা বেড়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগসহ পাবনা ও কুমিল্লায় পৃথক ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
রাজধানীর শাহবাগে রাত ৮টার দিকে দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-এর দুই নেতা এবি জুবায়ের ও মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। হামলার মুখে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ও সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের শাহবাগ থানায় আশ্রয় নেন।
অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষের মধ্যেই থানার ভেতরে ঢুকে মুসাদ্দিকের ওপর হামলা চালানো হয়, যাতে তিনি আহত হন।
অন্যদিকে কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাসে সন্ধ্যায় দুই সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
জানা যায়, ‘গুপ্ত শিবির’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিকেলে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের জেরে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে অধ্যক্ষের কক্ষে বিচার দাবি ঘিরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আরও পরুনঃ দুর্গাপুরে লরি-ট্রাক্টর ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ২
এদিকে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ-এ দুপুরে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন বলে জানা গেছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার সরকারি সিটি কলেজ-এ একই ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষে প্রায় ২০ জন আহত হন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘গুপ্ত লেখা’ ইস্যুকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুই সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।