

বিপুল মিয়া, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: ভালোবাসার টানে সুদূর চীন থেকে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এসে আলোচনায় উঠেছেন আন হুং ওয়েই নামের এক চীনা যুবক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর ঢাকায় গার্মেন্টস কর্মী মোরশেদা বেগমকে বিয়ে করেন তিনি। বর্তমানে স্ত্রীকে নিয়ে ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামে অবস্থান করছেন এই বিদেশি নাগরিক।
মোরশেদা বেগম ওই গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে। বিদেশি জামাইকে এক নজর দেখতে প্রতিদিনই বাড়িতে ভিড় করছেন স্থানীয় নারী-পুরুষ, কিশোর ও তরুণরা। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার ভাষা না মিললেও তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছেন। পুরো এলাকায় যেন উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ভিন্ন দেশ, ভাষা ও সংস্কৃতির হলেও ভালোবাসার টানেই এক হয়েছেন এই দম্পতি। চীনা যুবক আন হুং ওয়েইয়ের সহজ-সরল আচরণ ও আন্তরিকতায় ইতোমধ্যেই মুগ্ধ হয়েছেন এলাকাবাসী। অনেকেই বলছেন, তার কথা পুরোপুরি বোঝা না গেলেও আচরণে আন্তরিকতা স্পষ্ট।
এদিকে “চায়না জামাই”কে ঘিরে ফুলবাড়ীজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে আলোচনা। স্থানীয় অনেকেই তার সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে শেয়ার করছেন।
মোরশেদা বেগম জানান, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। পরে ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে আন হুং ওয়েই তাকে পছন্দ করে ঢাকায় এসে বিয়ে করেন। তিনি আরও জানান, স্বামী তাকে ভবিষ্যতে চীনে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। বর্তমানে স্বামীকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ঘুরতে এসেছেন তিনি।
আন হুং ওয়েই বলেন, “মোরশেদাকে আমার খুব ভালো লেগেছে। আমি তাকে খুব ভালোবাসি। এখানে এসে আমার খুবই ভালো লাগছে।” এ সময় তিনি বিয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও প্রদর্শন করেন।
আরও পড়ুনঃ গণভোটের প্রশ্ন নিয়ে ভিন্নমত, সচেতনতায় ইবি ছাত্রদলের লিফলেট বিতরণ
কাশিপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ফেরদৌস আলম বলেন, বিষয়টি শুনে তিনিও দেখতে এসেছিলেন। বিদেশি এই জামাইকে দেখে তারও ভালো লেগেছে বলে জানান তিনি।
ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদ হাসান নাঈম জানান, প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে চীনা যুবকের ফুলবাড়ীতে আসার বিষয়টি তারা জেনেছেন।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।