

রুবেল গাজী রায়পুর(লক্ষীপুর) প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে লোডশেডিং। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তীব্র গরমে বারবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ রোগী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো পূর্বঘোষিত সময়সূচি ছাড়াই দিন-রাতজুড়ে বারবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় কয়েক মিনিটের জন্য বিদ্যুৎ এলেও তা আবার চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে, আর দিনে ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস-আদালতের কার্যক্রম ও দৈনন্দিন কাজে নেমে এসেছে স্থবিরতা।
শিক্ষার্থীরা জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। বিশেষ করে পরীক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানপাট, কম্পিউটার সেবা, মোবাইল ব্যাংকিং, ফটোকপি, ফ্রিজনির্ভর ব্যবসা এবং ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।
স্বাস্থ্যসেবাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিদ্যুৎনির্ভর চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহারকারী রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আরও পড়ুনঃ জবিতে ছাত্রদল-ছাত্রশক্তি ও জকসুর সংঘর্ষ, রণক্ষেত্রে পরিণত ক্যাম্পাস
এদিকে, বিদ্যুৎ সরবরাহ কমলেও বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন অনেক গ্রাহক। তাঁদের দাবি, আগে যেখানে মাসিক বিল এক হাজার থেকে বারোশো টাকার মধ্যে থাকত, এখন একই পরিমাণ ব্যবহারেও দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা, এমনকি তারও বেশি বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো অতিরিক্ত আর্থিক চাপে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার পরও যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং সহ্য করতে হয়, তাহলে কাঙ্ক্ষিত সেবা কোথায়? তারা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রকৃত কারণ জনসম্মুখে প্রকাশ এবং দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
রায়পুরবাসীর মতে, বিদ্যুৎ শুধু একটি মৌলিক সেবা নয়; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম ভিত্তি। তাই দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত, কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।