

তানিম তানভীর, ইবি প্রতিনিধিঃ ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক হাফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও সমকামিতায় বাধ্য করার অভিযোগের অধিকতর তদন্ত ক্যাম্পাসে শুরু হলেও হঠাৎ কুষ্টিয়া শহরের দিশা টাওয়ারে ভেন্যু সরিয়ে নেওয়ায় প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ও ময়মনসিংহ রেঞ্জের অতিরিক্ত আইজিপি ড. আশরাফুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে ১০ জন শিক্ষককে সাক্ষাৎকারে আহ্বান করলেও ক্যাম্পাসের বাইরে বৈঠক ডাকায় কেউ উপস্থিত হননি।
লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, “শুরুর ঘোষণা ছিল ক্যাম্পাসেই বসা হবে। পরে অজ্ঞাত কারণে দিশা টাওয়ারে স্থান বদলে দেওয়া হয়। ক্যাম্পাসের নিরাপদ পরিবেশ ছেড়ে বাইরে গিয়ে কথা বলা সমীচীন মনে করিনি, তাই যাইনি।”
একই মত অন্য আমন্ত্রিত শিক্ষকদেরও। তবে ভেন্যু পরিবর্তনের কারণ জানতে অতিরিক্ত আইজিপি ড. আশরাফুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুনঃ রাজশাহী কলেজে বহিরাগত যুবকের ইভটিজিং, পুলিশের হাতে সোপর্দ
হাফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক বছর বাধ্যতামূলক ছুটি ও ইনক্রিমেন্ট বাতিলের প্রাথমিক শাস্তি ঘোষণা করেছিল বিশ্ববিদ্যালয়, তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা সেটিকে ‘অপর্যাপ্ত’ আখ্যা দিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভায় শাস্তি পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়ে ড. আশরাফুর রহমানকে এক সদস্যের নতুন তদন্ত কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ক্যাম্পাসের বাইরে সাক্ষাৎকার স্থগিত থাকায় অভিযোগের নিষ্পত্তি ঝুলে গেছে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষক‑শিক্ষার্থীরা। দ্রুত ক্যাম্পাসভিত্তিক বৈঠক পুনরায় শুরু না হলে দীর্ঘসূত্রতায় ন্যায়বিচার বিলম্বিত হবে—এমনই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।