

তানিম তানভীর, ইবি প্রতিনিধিঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো ক্যাম্পাস।
রবিবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রধান ফটকে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাজিদ হত্যার বিচার নিশ্চিত না হলে আগামীকাল প্রশাসন ভবন অবরোধ এবং পরে ক্যাম্পাস শাটডাউনের মতো কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। একইসাথে নিরাপদ ক্যাম্পাস গঠনে প্রস্তাবিত ১৫ দফা বাস্তবায়নে প্রশাসনের জবাবদিহিতা দাবি করা হয়।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা ‘বিচার চাই’, ‘সাজিদ হত্যার বিচার চাই’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে?’ ইত্যাদি স্লোগানে প্রকম্পিত করে তোলে পুরো ক্যাম্পাস। বক্তারা বলেন, সাজিদকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
ছাত্রনেত্রী জেরিন তাসনিম পুষ্প বলেন, “আমরা জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে এক পঙ্গু প্রশাসন দেখেছি, যারা ছাত্র নিপীড়নের বিরুদ্ধে নীরব থেকেছে। আজ আবারো সেই প্রশাসন নিরব। যদি এবারো এই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হয়, তাহলে এই প্রশাসনকে পঙ্গু বলাই যথাযথ।”
ছাত্রশিবির নেতা জাকারিয়া বলেন, “সাজিদ আমাদের ভাই। সে ৩০ পারা কোরআনের হাফেজ, পরিবারের একমাত্র সন্তান। তাকে হত্যা করে পুরো মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে আঘাত করা হয়েছে। বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
আরও পড়ুনঃ সাজিদ হত্যায় উচ্চতর তদন্তের সুপারিশ ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির
ছাত্রদলের নেতা নুর উদ্দিন বলেন, “৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি কোনো খুনিকে গ্রেফতার করা না হয়, তাহলে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউনের ঘোষণা দিতে বাধ্য হব। কোনো ক্লাস-পরীক্ষা চলবে না।”
ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত বলেন, “আজ সাজিদের লাশ পুকুরে, কাল হয়তো আমার লাশও সেখানে ভেসে উঠবে। এই নিরাপত্তাহীন পরিবেশ আমরা মেনে নেব না। তদন্তের দায়িত্ব সিআইডি বা বিচার বিভাগীয় সংস্থাকে দিতে হবে।সাজিদের হত্যার ১৫ দিন পেরিয়ে গেছে, প্রশাসন এখনো কোনো উত্তর দিতে পারেনি। বিচার না হলে আমরা প্রশাসনকে বিদায় জানাবো।”
উল্লেখ্য, আজ প্রকাশিত ভিসেরা রিপোর্ট অনুযায়ী সাজিদকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। রিপোর্টে তার শরীরে কোনো বিষাক্ত উপাদান পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১৭ জুলাই বিকেলে শাহ আজিজুর রহমান হল সংলগ্ন পুকুর থেকে সাজিদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সাজিদ আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
ঘটনার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। এবার প্রশাসন ভবন অবরোধ এবং ক্যাম্পাস শাটডাউনের আল্টিমেটাম দিয়ে আন্দোলন আরও বেগবান করার ঘোষণা দিলেন তারা।