

তানিম তানভীর, ইবি প্রতিনিধিঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত এইসিটি (AECT) আন্তর্জাতিক সম্মেলন ২০২৫-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে সাফল্য এনেছেন কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ও রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. জহুরুল ইসলাম ও তাঁর পরিবার।
গত সোমবার থেকে শুক্রবার (২০ থেকে ২৪ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশ্ব শিক্ষার মঞ্চে ঐতিহাসিক চিহ্ন স্থাপন ও দেশের জন্য গর্ব বয়ে এনেছেন এ বাংলাদেশী শিক্ষা পরিবার।
জানা যায়, অধ্যাপক ড. জহুরুল ইসলাম, তাঁর মেয়ে তোরসা জহুর এবং জামাতা পারভেজ আহমেদ যৌথভাবে আইনি শিক্ষায় প্রযুক্তি ইন্টিগ্রেশন ও উদ্ভাবন নিয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। তোরসা ও পারভেজ দুজনই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের (UND) পিএইচডি গবেষক।
অধ্যাপক ড. জহুরুল ইসলাম লিড রিসার্চার হিসেবে দুটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন— মাল্টিমিডিয়া-ভিত্তিক ভিজ্যুয়াল ইন্সট্রাকশনের মাধ্যমে আইন শিক্ষার্থীদের শ্রেণীকক্ষ অভিজ্ঞতার একটি বিশ্লেষণ এবং বাংলাদেশে আইন শিক্ষায় প্রযুক্তি ইন্টিগ্রেশন ও শিক্ষকগণের দক্ষতা মূল্যায়ন।
অন্যদিকে, পারভেজ আহমেদ তাঁর গবেষণায় দেখান কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) আইন শিক্ষার্থীদের লিগ্যাল ড্রাফটিং বা খসড়া তৈরির দক্ষতা উন্নত করতে পারে। তোরসা জহুর উচ্চ শিক্ষায় ডিজিটাল অ্যাক্সেসিবিলিটি ও ইনক্লুসিভ এডুকেশন নিয়ে আলোচনা করেন, যেখানে তিনি বিভিন্ন শিক্ষার্থী গোষ্ঠীর জন্য ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
ড. জহুর পরিবারের এই অংশগ্রহণ সম্ভব হয়েছে ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ডাকোটার College of Education and Human Development এবং School of Graduate Studies-এর ভ্রমণ অনুদানের সহায়তায়। তাদের গবেষণা বিশ্বব্যাপী শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ রাজশাহী কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটির সহযোগী সদস্য বাছাইয়ের মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন
ড. টোনিয়া এ. ডুসে, University of Alaska Anchorage–এর School of Education-এর ডিন এবং AECT-এর বর্তমান প্রেসিডেন্ট, জহুর পরিবারের প্রশংসা করে বলেন, “এইসিটি সম্মেলনে বাংলাদেশের ড. জহুর পরিবারের অংশগ্রহণ একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এটি শিক্ষাগত উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি ইন্টিগ্রেশনে বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকার প্রতিফলন। তাদের গবেষণা শুধু একাডেমিক নয়, বরং বৈশ্বিক শিক্ষাক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তি ও সহযোগিতার প্রতীক।”
অধ্যাপক ড. জহুরুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিশেষ করে আইন শিক্ষায় প্রযুক্তি ইন্টিগ্রেশনকে এগিয়ে নিতে আমি এবং আমার পরিবার কাজ করে যাচ্ছি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে দক্ষ ও প্রযুক্তি-জ্ঞানসম্পন্ন জনবল তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।”
বিশ্ব শিক্ষাঙ্গনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই পরিবারটির অবদান শুধু গর্বের নয়, বরং দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তনের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ইঙ্গিত বহন করছে।