spot_img

― Advertisement ―

spot_img

ইবি দুই শিক্ষার্থী গুমের ১৪ বছর: সন্ধানের দাবিতে মানববন্ধন

তানিম তানভীর, ইবি প্রতিনিধিঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুই শিক্ষার্থী গুমের ১৪ বছর পূর্ণ হলেও তাদের সন্ধান মেলেনি। এখনো তাদের খোঁজে প্রতীক্ষায় রয়েছে পরিবার।বুধবার (৪...
প্রচ্ছদশিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গনক্যাম্পাসজুলাই পরবর্তী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাল-সেকাল

জুলাই পরবর্তী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাল-সেকাল

তানিম তানভীর, ইবি প্রতিনিধিঃ স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। ইসলামী ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে উচ্চশিক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠে এ বিশ্ববিদ্যালয়। তবে আওয়ামী শাসনামলে বিশ্ববিদ্যালয়টির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে ছিলো যোজন যোজন দূরে। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতনের পর বিশ্ববিদ্যালয়টির হাল ধরতে ১৪তম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে জুলাইয়ের আকাঙ্খা বাস্তবায়নে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ, একাডেমিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পথে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছে প্রশাসন। গত এক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের শিক্ষা অঙ্গনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজেদের মেলে ধরেছে।

শিক্ষায় সংস্কার

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪টি বিভাগে চলছে তীব্র শিক্ষক সংকট। এতে সবচেয়ে বড় সংকট বিভিন্ন বিভাগের দীর্ঘ সেশনজট। গত বছরের জুন মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে শিক্ষক কর্মকর্তারা সর্বজনীন পেনশনের প্রত্যয় স্কিম বাতিলসহ তিন দফা দাবিতে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন এবং জুলাই থেকে শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কারের আন্দোলনের ফলে একাডেমিকসহ ইবির সব কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ প্রশাসনিক প্রায় সব পদ শূন্য হয়ে পড়ে। দায়িত্ব গ্রহণের পর
সেশনজট নিরসনে বর্তমান প্রশাসন ২১টি বিভাগে ৫৯টি শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। তবে ইউজিসির পূর্বানুমতি না নেওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। পরে ইউজিসি থেকে অর্থছাড়ে ৬ বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ হয়। পরবর্তী অর্থছাড়ে ৪ বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রদান করে প্রশাসন। এছাড়া প্রত্যেক বিভাগে একাডেমিক ইউনিফর্ম ক্যালেন্ডার, শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্যালেন্ডার বিতরণ, যথাসময়ে ক্লাস-পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশে তদারকি, অনুষদের ডিন ও বিভাগের সভাপতিবৃন্দের সাথে আলোচনা সভা, বিভাগ পরিদর্শনসহ নিয়মিত ক্লাস পরিচালনায় কাজ করে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, নতুন করে ইসলামিক ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব নামে নতুন অনুষদ চালু করা হয়। অনুষদটির অধীনে দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ’, ‘তুলনামূলক ধর্ম’ ও ‘মুসলিম দর্শন’ তিনটা বিভাগ রয়েছে। আগামী ২০২৫-২৬ বর্ষ থেকে এ বিভাগের কার্যক্রম শুরু হবে। এছাড়া থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের অধীনে কম্পারেটিভ তাফসির এবং আস-সিরাহ আন-নববিয়্যাহ নামে দুটি নতুন বিভাগ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯টি অনুষদের ৩৬টি বিভাগে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী ১৯ হাজার ৮৯৭ জন।ইসলামী ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে উচ্চশিক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যে ধর্মতত্ত্ব অনুষদের তিন বিভাগে তিনটি, সামাজিক ও কলা অনুষদে একটি করে মোট পাঁচটি রিসার্স সেন্টার চালু করবে প্রশাসন। এছাড়া শিক্ষকদের পাঠদান মূল্যায়নে মনিটরিং সেল ও প্রত্যেক অনুষদভিত্তক শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধির সাথে নিয়মিত আলোচনার পরিকল্পনা করেছে প্রশাসন।

আন্তর্জাতিকীকরণে ইবির অগ্রযাত্রা

বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন’ এর মাধ্যমে বিশ্বের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ে দেখভাল করা হয়ে থাকে। বিশ্বের ১০টি দেশের ২১টি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইবির শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক (চুক্তি) স্বাক্ষরিত হলেও এর অধিকাংশই এখন পর্যন্ত যথাযথভাবে আলোর মুখ দেখেনি। চুক্তিগুলোর মধ্যে ৬টি বাদে সবই করা হয়েছে বিগত প্রশাসনের সময়ে। জুলাই পরবর্তী প্রশাসনের চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- তুরস্কের চানকিরি কারাকেতিন ইউনিভার্সিটির ইরাসমাস+ কেএ১৭১, যুক্তরাজ্যের ইসলামিক ফাউন্ডেশন, আমেরিকার ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট, যুক্তরাজ্যের মার্কফিল্ড ইনস্টিটিউট অব হায়ার এডুকেশন, চীনের হুয়াজং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, উচাং ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি এবং গুইলিন ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিষয়ের উপর আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণা প্রকল্পে ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইবির বিভিন্ন বিভাগের ১৪১ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ পর্যন্ত ৭৪৯ শিক্ষার্থীকে পিএইচ.ডি এবং ৮৫৫ শিক্ষার্থীকে এম.ফিল ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে ১২৫ জন পিএইচ.ডি এবং ১০২ জন এম.ফিল গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া বিশ্বের শীর্ষ দুই শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদেমুল হারামাইন বাদশাহ ফাহদ বিন আব্দুল আজিজ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে বই রয়েছে ১ লক্ষ ৩০ হাজার ২১৭ টি। এছাড়াও জার্নাল, ম্যাগাজিন এবং নিউজ পেপার এর সংখ্যা ১৯ হাজার ৫ শত ৯৩টি। এতে রিমোট অ্যাক্সেস এর মাধ্যমে অনলাইনে সাবস্ক্রাইবড ই-বুক এবং ই-জার্নাল পড়ার সুবিধা রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের জন্য জব কর্ণার ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্ণার করা হয়েছে। গ্রন্থাগারের ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

আবাসিক হলের আমূল পরিবর্তন

আওয়ামী আমলে অবৈধ সিট দখল করে দীর্ঘদিন হলে অবস্থান করতো ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সিট বাণিজ্যের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আবাসনের সুবিধা দেওয়া হতো। বর্তমানে সিট বাণিজ্যের বিলোপ করে শতভাগ বৈধ সিট বণ্টন করছে কর্তৃপক্ষ। বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে হলগুলো রূপান্তরিত হয়েছে আধুনিক, সুসজ্জিত ও শিক্ষাবান্ধব আবাসিক হলে। আওয়ামী আমলে লালন শাহ হলের ৩৩০ নম্বর কক্ষটি ছাত্রলীগের টর্চার সেল হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিল। বর্তমানে তা শিক্ষার্থীদের জন্য সুসজ্জিত রিডিং রুমে পরিণত হয়েছে। এছাড়া হলগুলোতে পরিশোধিত সুপেয় পানি, মানসম্মত খাবার, ইন্টারনেটের উচ্চগতির সংযোগ, রাতের হল প্রাঙ্গণে সোডিয়াম লাইট, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, অভ্যন্তরীণ মেডিসিন কর্নার, আধুনিক সেলুন ও লন্ড্রি সুবিধা, ডিবেটিং সোসাইটির নিজস্ব কক্ষ, টিভি ও রিডিং রুমসহ ইনডোরে খেলার পরিবেশ তৈরিতে কাজ করেছে হল কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৭ শতাংশ শিক্ষার্থীর আবাসন সুবিধা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ৫টি হল ও ছাত্রীদের ৩টি আবাসিক হলে আসন সংখ্যা তিন হাজার ৩৫৫। বাকী প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন সুবিধা নেই। তবে বর্তমানে দশতলা বিশিষ্ট ছেলেদের ২টি ও মেয়েদের ২টি আবাসিক হলের কাজ চলমান রয়েছে।

অবকাঠামোগত উন্নয়ন

২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ৫৩৭ কোটি ৭ লাখ টাকার মেগা প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়েও ছয় বছরেও প্রকল্পের কাজ বাকি থাকে আরও ৪০ শতাংশ। ফলে তৃতীয় দফায় প্রশাসনের দুই বছর মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঞ্জুর হয়েছে দেড় বছর। মেগা প্রকল্পের তৃতীয় মেগা এপিসোডে এটি পূর্ণতা পাবে বলে আশাবাদী কর্তাব্যক্তিরা।

জানা যায়, মেগাপ্রকল্পের আওতায় আবাসিক হল ও একাডেমিক ভবনসহ ৯টি ১০ তলা ভবন এবং ১১টি ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়। নতুন ভবনের মধ্যে দু’টি ছাত্র ও দুটি ছাত্রী হল, একটি একাডেমিক ভবন, শিক্ষক, কর্মকর্তাদের জন্য একটি, কর্মচারীদের জন্য একটি, দ্বিতীয় প্রশাসন ভবন এবং শহীদ আনাস হলের দ্বিতীয় ব্লক নির্মাণ করা হবে। আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ছেলেদের একটি নতুন হল চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে প্রশাসন।

পরিবহন সেবায় নতুনত্ব

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, চিকিৎসা ও প্রশাসনিক কাজে পরিবহন সংকট তীব্র। ভাড়ায় চালিত বাস ও লাইনের বাসে অতিরিক্ত ভাড়ায় শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহের লাইনের বাস ভাড়া ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০১৯ সালের পর বর্তমান প্রশাসন নতুন চারটি ভাড়াকৃত বিআরটিসি বাস পরিবহন পুলে সংযুক্ত করে। এতে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলে নিজস্ব ৪৬টি গাড়ি ও ভাড়াকৃত ১৩টি দ্বিতল বাসসহ মোট ৩৩টি বাস-মিনিবাস রয়েছে। এছাড়া প্রতি ঘণ্টায় বাস সার্ভিস চালু ও ক্যাম্পাসে যাতায়াতের জন্য ৪টি ইলেকট্রিক কারের ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুনঃ নবীনদের বরণে রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের শুভেচ্ছা মিছিল

প্রক্টরিয়াল বডির তৎপরতা

ইবির প্রক্টরিয়াল বডি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং সার্বিক সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রতিটি আবাসিক হল, প্রধান ফটকসহ লালন শাহ ও শাহ আজিজুর রহমান হল পকেট গেইট সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও রেজিস্টার খাতা মেইনটেইন করা, বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে মাইকিং-বিজ্ঞপ্তি, ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসি ক্যামেরার স্থাপন, পর্যাপ্ত লাইটিং ব্যবস্থা, সৌন্দর্যবর্ধনে গার্ডেনিং লাইট স্থাপন, ফোয়ারা সংস্কার, প্রকাশ্যে মাদক সেবন গ্রহণে নিয়ন্ত্রণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন, সামাজিক সংগঠনগুলোর মধ্যে সহাবস্থান নিশ্চিতকরণ, নিরাপত্তা কর্মীদের তদারকির জন্য তিনজন আর্মি সুপারভাইজার নিয়োগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিং, বুলিং এবং যৌন হয়রানি নিষিদ্ধ ও এর বিরূদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কমিটি গঠন, ক্যাম্পাসের খাবারের দোকানগুলোকে তদারকিসহ শিক্ষার্থীদের সার্বিক সমস্যা সমাধানে কাজ করে যাচ্ছে।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তায় কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ রেঞ্জের মোট ৯৪ জন আনসার সদস্য কর্মরত আছেন। নিরাপত্তা কর্মীদের তদারকির জন্য তিনজন আর্মি সুপারভাইজার নিয়োগ দেয় প্রশাসন। দায়িত্ব গ্রহণের অদ্যাবধি র‍্যাগিং, বুলিং ও যৌন হয়রানির অভিযোগ পায়নি প্রক্টর অফিস। হল বন্ধ থাকাকালীন ক্যাম্পাসে কোন চুরির ঘটনা ঘটেনি,বিগত এক বছরে সংগঠনগুলোর মধ্যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

এছাড়াও নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের কোন অভিযোগ পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে মাদকসেবীদের আনাগোনা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরের দোকান, রেস্টুরেন্টের খাবার খেয়ে টাকা না দেওয়াসহ কোন চাঁদা বা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেনি। এছাড়া প্রক্টোরিয়াল বডি এবং নিরাপত্তা সেলের কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে এবং তারা ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। প্রক্টরিয়াল বডি জানান, দায়িত্ব পালনে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, এই বিষয়ে সবার পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।

টিএসসিসি ফিরে পেল নতুন প্রাণ

শিল্প-সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম স্থান ইবির ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (টিএসসিসি)। বিগত শাসনামলে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া বন্ধ থাকায় স্থবির হয়ে পড়ে সামাজিক, সাংস্কৃতিক মুহূর্তেগুলো। দীর্ঘ ২১ মাস বন্ধ থাকার পরে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া চালু করে প্রশাসন। পরে পর্দানশীন নারীদের জন্য বিশেষ কর্নারের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া ক্যাম্পাসের বিভিন্ন বিভাগ ও সংগঠনের নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য এখানে রয়েছে এক সুবিশাল মিলনায়তন। শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার, গবেষণা, দক্ষতা প্রভৃতি বিষয়ে নানা সভা, সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম হয়ে থাকে। মিলনায়তনে নতুন আসবাবপত্র সংযোজন, চেয়ার মেরামত, ফ্রী ওয়াইফাই ও এসির ব্যবস্থাসহ বেশকিছু সংস্কার করা হয়েছে।

জানা যায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মঞ্চের (ঐক্যমঞ্চ) অধীনে ২২টি সংগঠনসহ প্রায় ৫২ টি সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অরাজনৈতিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে তারুণ্য, ক্যাপ, বুনন, রক্তিমা, গ্রিন ভয়েস, রোভার স্কাউট, বিএনসিসি, আবৃত্তি আবৃত্তি, রোটার‌্যাক্ট ক্লাব অব ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, ল অ্যাওয়ারনেস অ্যান্ড এনলাইটেন্ড সোসাইটি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদ, কাম ফর রোড চাইল্ড, কনজুমার ইয়ুথ বাংলাদেশ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মডেল ইউনাইটেড নেশনস অ্যাসোসিয়েশন (আইইউমুনা), বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব, বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটার ইত্যাদি অন্যতম। অবাধে সকল সংগঠন তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় মসজিদে সুদৃষ্টি

ইসলামী শিক্ষার সাথে আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় সাধনের জন্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী শিক্ষার প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়।
২০১২ সাল থেকে শিক্ষক-কমকর্তার সন্তানদের মানসম্মত ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিতের লক্ষ্যে নূরানী মক্তব পরিচালিত হতো নির্মাণাধীন কেন্দ্রীয় মসজিদে। তবে আওয়ামী শাসনামলে এরই ২০১৭ সালে নূরানী মক্তবকে ‘জঙ্গী কারখানা’ আখ্যা দিয়ে বন্ধ করা হয়। এছাড়া ১৯৯৪ সালে কেন্দ্রীয় মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হলেও ৩০ বছরে নিমার্ণকাজ শেষ হয়নি।

নির্মাণকাজ শেষ হলে এশিয়া মহাদেশের সৌন্দর্যতম মসজিদগুলোর একটি হবে এটি। এতে একত্রে ১৭ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। বর্তমান প্রশাসন কেন্দ্রীয় মসজিদের সংস্কার ও নির্মাণকাজে নজর দিয়েছে। এতে মসজিদের অভ্যন্তরে মাইক প্রতিস্থাপন, সপ্তাহের সোমবার পবিত্র আল কুরআনের তাফসির মাহফিল চালু করেছে। এছাড়া নির্দিষ্ট মেয়াদে মসজিদটির নির্মাণাধীন বাকী কাজ সম্পন্ন করা, মসজিদের নিচতলায় একটি লাইব্রেরি ও রিসার্স সেন্টারের পরিকল্পনা করছে প্রশাসন।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে বাস্তবরূপ দিতে এই প্রশাসনের প্রতি আমরা আস্থা রাখতে চাই। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু খাত যেমন চিকিৎসা, ডিজিটালাইজেশনে তাদের ভূমিকা সন্তোষজনক নয়। জুলাই আকাঙ্খাকে ধারণ করে প্রশাসন অতি দ্রুতই এইসব খাতে সুদৃষ্টি দিবে এবং আমাদের সকল আশা-প্রত্যাশা পূরণে তারা সচেষ্ট থাকবে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, যে কাজ করে সে সফলতা-বিফলতা নির্ণয় করে না। কাজ করতে গেলে সমালোচনা থাকবেই। আমি চাই গঠনমূলক সমালোচনা। আমি আমার কাজ করে যাবো। এক্ষেত্রে এক ধরনের লোক শত্রুতা করবেই। আমি যখন দেখবো আমাকে সকলেই প্রশংসা করছে, তাহলে বুঝতে হবে আমি মুনাফেক। আমি সবাইকে ঠিক রাখার জন্য কাজ করছি। সবাইকে যারা সন্তুষ্ট রাখে, সে অনেক অপকর্মের ভাগিদার হয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা কাজ করছি। এক রাতেই সব কিছুর পরিবর্তন সম্ভব নয়। সমস্যা যদি অনেক বেশি থাকে, তাহলে সেই সমস্যা সমাধানে আমরা কাজ করবো। একটা অবস্থায় দেখা যাবে পরিবর্তন এসেছে। বিগত প্রশাসন সকলের মন রক্ষা করে চলে বিশ্ববিদ্যালয়কে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছে। সেই গর্ত থেকে তুলে বিশ্ববিদ্যালয়কে তার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জনে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে।