

ডালিয়া হালদার, ববি প্রতিনিধিঃ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের কুয়াকাটা মহাসড়কসহ পুরো শহরের সড়ক এখন চরম বেহাল অবস্থায়। খানাখন্দে ভরা রাস্তার কারণে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও অটোর চাকা আটকে যাচ্ছে, আবার কোথাও যাত্রীসহ অটো উল্টে দুর্ঘটনায় আহত হচ্ছেন পথচারীরা। শহরের বিভিন্ন সড়ক ভাঙাচোরা থাকায় যাত্রী, চালক ও সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে বাধ্য হচ্ছেন।
বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়ক ছাড়াও ভোলা রোড, রুপাতলী, নথুল্লাবাদ, বাংলাবাজার ও নতুন বাজার এলাকার সড়কেও বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের পিচ-পাথর উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বিপজ্জনক পরিস্থিতি। সাময়িকভাবে ইট ফেলে ভরাট করলেও তা কয়েক দিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন অন্তত দুই হাজারের মতো যানবাহন এই রুট দিয়ে চলাচল করে। পদ্মা সেতু চালুর পর কুয়াকাটাগামী যানবাহনের সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ায় চাপও তুলনামূলক বেড়েছে।
কুয়াকাটা–ঢাকা রুটের বাসচালক কেরামত আলী বলেন, “সড়কের অবস্থা এতটা খারাপ যে বাস চালাতে ভয় লাগে। যাত্রীরাও আতঙ্কে থাকেন। সময়ও বেশি লাগে। যে ধরনের সংস্কার করা হচ্ছে, তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না—আগেও এমন হয়েছে, টেকেনি।”
সওজ বরিশালের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মাসুদ খান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সড়ককে আমরা সবসময় গুরুত্ব দিই। তবে এটি মাত্র ২৪ ফুটের একটি সিঙ্গেল রোড—এ রাস্তায় ভারী যানবাহন চলায় ক্ষতি বেশি হয়। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ২০০ মিটারে পাঁচটি স্পিড ব্রেকার দিয়েছি, যা হাইওয়ের জন্য আদর্শ নয়। বেপরোয়া ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন রাস্তায় বড় ক্ষতির কারণ। জায়গার অভাবে রাস্তা প্রশস্ত করা যাচ্ছে না।”
তিনি আরও জানান, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ১৮ কিলোমিটার রাস্তা ওভারলেপিংয়ের আওতায় আসবে। তবে ট্রাফিক কন্ট্রোল দুর্বল, ‘সিন্ডিকেট’ সমস্যা আছে—যার কারণে নতুন যানবাহন ঢুকে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। পরিকল্পনার অভাবে বছরের পর বছর অব্যবস্থাপনা চলছেই। ফুটওভার ব্রিজ নির্মিত হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে।”
বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল বাশার বলেন, “বর্ষাকালে বিটুমিনের কাজ করা যায় না। বর্ষা না গেলে সংস্কারও সম্ভব নয়। অতীতে টেন্ডার–রাজনীতির কারণে টেকসই কাজ হয়নি। হেভি লোড, স্পিড ব্রেকার আর লাইসেন্সবিহীন মোটরযানের কারণে রাস্তার গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফাইনান্সিয়াল সংকটের কারণে নতুন প্রকল্পও বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।”
আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় ইবি ছাত্রদলের দোয়া মাহফিল
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, “একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কের এমন করুণ অবস্থা দুঃখজনক। প্রায়ই দেখি যাত্রীসহ অটো উল্টে যাচ্ছে। আমার নিজের চলাচলেই ভোগান্তি হয়। কর্তৃপক্ষের গাফিলতি যেমন আছে, আমাদের তাগিদ দেওয়াতেও ঘাটতি রয়েছে। আমি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি—আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।”
নূর লামিয়া তাবাসসুম, শিক্ষার্থী (ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ) বলেন, “রাস্তা পার হতে গিয়েই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছি। সড়কের অব্যবস্থাপনা, বেপরোয়া গতি আর প্রশাসনের উদাসীনতা—এসবই দায়ী। নেই ফুটওভার ব্রিজ, দাঁড়িয়ে থাকতে হয় দীর্ঘক্ষণ।”
নিয়মিত যাত্রী ফয়সাল সাহেব বলেন, “খানাখন্দ আমার দৈনন্দিন জীবনে যন্ত্রণার মতো হয়ে গেছে। হাঁটার সময় মনে হয় কখন পড়ে গিয়ে আঘাত পাব!”
বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়ক দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগপথ। অথচ সড়কের এই বেহাল দশা প্রতিদিনই মানুষের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, দ্রুত সংস্কার না হলে দুর্ঘটনা ও ভোগান্তি আরও বাড়বে।