

ডালিয়া হালদার, ববি প্রতিনিধিঃ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) দুই দিনব্যাপী সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে দ্বিতীয় জাতীয় বিতর্ক উৎসব–২০২৫। বরিশাল ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি (বিইউডিএস) আয়োজিত এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয় গত ২৮ ও ২৯ নভেম্বর। “ঘুচে যাক দূরত্ব পথের ও মতের”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই বিতর্ক উৎসবে চ্যাম্পিয়ন হয় চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটি এবং রানার্সআপ হয় ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি (ডিইউডিএস)।
ফাইনাল রাউন্ডে বিতর্কের মোশন ছিল “জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নে নিজস্ব ক্ষেত্রে সফল”। প্রধান বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন কুয়েট ডিবেটিং সোসাইটির সাবেক সভাপতি ও জাতীয় বিতার্কিক রায়হান আহমেদ জয়।
দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ২৮টি দল অংশ নেয় এবারের আয়োজনে। অংশগ্রহণকারী দলের মধ্যে ছিল জগন্নাথ ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি, রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ডিবেট অর্গানাইজেশন, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হোয়াইট, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি, বাংলা কলেজ ডিবেটিং ক্লাব, শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ ডিবেট ফোরামসহ আরও অনেকে।
চ্যাম্পিয়ন চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি কামরুল আহসান বলেন, “আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফিরবো এমন আশাই নিয়ে এসেছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা পেরেছি। বরিশাল ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির আয়োজনটি দারুণ ছিল এবং আমরা অত্যন্ত উপভোগ করেছি। এখানে জাতীয় পর্যায়ের বিতার্কিকরা বিচারক হিসেবে ছিলেন এবং বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো পক্ষপাতিত্ব অনুভব করিনি।”
আরও পড়ুনঃ বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় ইবিতে দোয়া মাহফিল
বরিশাল ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, “বিতর্ক মানুষের কণ্ঠে যুক্তির শক্তি তুলে ধরে, চিন্তাকে শানিত করে এবং ভিন্নমতকে শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করার শিক্ষা দেয়। সচেতন নাগরিক তৈরিতে বিতর্ক চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। আমরা বিশ্বাস করি, আজ যারা বিতর্কে অংশ নিচ্ছেন, তারাই ভবিষ্যতে যুক্তিবোধের আলো ছড়িয়ে দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দেবেন।”
অনুষ্ঠানের কনভেনার উপমা দত্ত বলেন, “আমাদের কয়েকজন সদস্য দুই মাস পরিশ্রম করে এত বড় আয়োজনটি সম্পন্ন করেছি। প্রথমবার ২০২৩ সালে আয়োজিত উৎসবের পর এবার তা ছাড়িয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ ছিল, সে হিসেবে আমরা সফল হয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ছিলেন সহযোগিতাপূর্ণ, যদিও প্রশাসন থেকে আর্থিক সহায়তা না পাওয়ায় কিছু চ্যালেঞ্জ ছিল। আশা করছি, প্রতিবছর এমন সুন্দর আয়োজন অব্যাহত থাকবে।”
দুই দিনব্যাপী এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটে পুরস্কার বিতরণী ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক পর্বে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য শিল্পীরা পরিবেশনা করেন, যা উৎসবকে আরও রঙিন ও প্রাণবন্ত করে তোলে।