

তানিম তানভীর, ইবি প্রতিনিধিঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যা, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যা এবং বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বির হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বাদ জুম্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীদের ‘নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার’, ‘সাজিদ আব্দুল্লাহ কবরে, খুনি কেন বাইরে’, ‘হাদি ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’, ‘মুসাব্বির ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’, ‘জাস্টিস জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘দিনে দুপুরে লাশ পড়ে, ইন্টেরিম কী করে’ এবং ‘বিচার চাই, হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই’—এমন নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়।
সমাবেশে শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইউসুফ আলী বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে শহীদ সাজিদ আব্দুল্লাহকে হত্যা করা হয়েছে, কিন্তু এখনো তার বিচার হয়নি। একইভাবে শহীদ ওসমান বিন হাদি ও শহীদ মুসাব্বির হত্যারও বিচার হয়নি। আমরা এই হত্যাগুলোর বিচার আদায়ে এখনো ব্যর্থ হয়েছি এবং এই ব্যর্থতার দায় আমাদের সবাইকেই নিতে হবে। তিনি প্রশাসনের প্রতি আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এসব হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বো না এবং শহীদদের কখনো ভুলে যাবো না।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের প্রভাবে কিছু এজেন্টকে ব্যবহার করে জুলাই আন্দোলনের ঐক্য ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব ষড়যন্ত্র থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছ থেকে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন করলে গুরুত্বহীন উত্তর পাওয়া যায়, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। তিনি বলেন, আগের হত্যাগুলোর বিচার হলে পরবর্তী হত্যাকাণ্ডগুলো হয়তো ঘটতো না।
আরও পড়ুনঃ ইরানের মরুভূমিতে ডেল্টা ফোর্সের দুঃস্বপ্ন: মার্কিনিদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী শহীদ সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো খুনিদের শনাক্ত করা হয়নি। এতদিনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কী করেছে, সেই প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের। প্রশাসন যদি ব্যর্থ হয়, তবে তা স্বীকার করে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের সহায়তা নেওয়া উচিত। অথচ সাধারণ শিক্ষার্থীরা যখন বিচারের দাবিতে কর্মসূচি দেয়, তখনই প্রশাসনের আপত্তি দেখা যায়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ জুলাই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হল পুকুর থেকে সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জানা যায়, শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়েছে। একই বছরের ১২ ডিসেম্বর গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি।
পরবর্তীতে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সর্বশেষ গত ৭ জানুয়ারি রাজধানীর ফার্মগেটে গুলিবিদ্ধ হন ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বির এবং পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।