

তানিম তানভীর, ইবি প্রতিনিধিঃ চব্বিশের কোটা সংস্কার আন্দোলন দমন করতে তৎকালীন শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের দমন-পীড়নের অংশ হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) এক দফা আন্দোলন সরকার পতনের দিকে গড়ালেও তা নস্যাৎ করতে আওয়ামীপন্থীরা নানামুখী ষড়যন্ত্রের নীলনকশা প্রণয়ন করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন ইবি প্রশাসন, আওয়ামীপন্থি শিক্ষক সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও শাপলা ফোরাম সমন্বিতভাবে এ ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিল। এক বছর পর একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জুলাই বিরোধী শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাময়িক বরখাস্ত এবং শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার ও সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিলেও চূড়ান্ত শাস্তি নির্ধারণে গঠিত রিভিউ কমিটির অধিকাংশ সদস্য অপারগতা প্রকাশ করে পদত্যাগ করায় পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে ক্যাম্পাসে সংশয় তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
সূত্রমতে, গত ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রত্যয়’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিরোধিতা করে লাগাতার আন্দোলন করেন শিক্ষকরা। পরে ১৪ জুলাই আন্দোলনরত শিক্ষকরা ক্লান্ত হলে, তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন বলে জানান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ঘোষণায় আন্দোলনরত শিক্ষকরা নাখোশ হন। পরে ১৬ জুলাই আবু সাঈদ শহীদ হলে সারাদেশে আন্দোলন তীব্র হয়৷ এ ঘটনায় আওয়ামীপন্থীরা পেনশন স্কিম বাদ দিয়ে জুলাই আন্দোলন দমন-পীড়নের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের নির্দেশে তার বাসায় দফায় দফায় মিটিং, অনলাইন প্রচারণা ও শিক্ষার্থীদের হুমকির পাশাপাশি ক্যাম্পাসে মিছিল-সমাবেশ, ঢাকায় গোয়েন্দাদের কাছে ছাত্র আন্দোলনের পক্ষের শিক্ষকদের তালিকা প্রেরণসহ নানাবিধ ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠেন আওয়ামীপন্থি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশ। এছাড়া শাখা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মাধ্যমে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হুমকি ও মারধর করা হয়।
এদিকে ধীরে ধীরে কোটা সংস্কার আন্দোলন সারাদেশে সহিংস পর্যায়ে পৌঁছায়। প্রথমদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলন দমানোর প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয় ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. শেলীনা নাসরিনের কক্ষে। এই মিটিংয়ে আওয়ামীপন্থী প্রায় ১৫/২০ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। তৎকালীন ডিনের কক্ষে দুইদিন এই মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। পরে পুরাতন বিজ্ঞান ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে একদিন এবং শিক্ষক সমিতির অফিস কক্ষে দুইদিন মিটিং করে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা।
তারা আন্দোলন নস্যাতের মূল কার্যক্রম শুরু করে শুক্রবার (২ আগস্ট) থেকে। এদিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাদ জুম্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়। পরে মসজিদের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রফেসর ড. এমতাজ হোসেন এবং আল কোরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. নাছির উদ্দিন মিঝি চলমান এ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন দমাতে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করতে বলা হয়। পরদিন ৩ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে বসেন।
এদিন ভারপ্রাপ্ত ভিসি এবং তৎকালীন ভিসি প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমানকে সভাপতি করে কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়ার অফিস কক্ষে একটি মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। এসময় প্রক্টর প্রফেসর ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ, সহকারী প্রক্টর আমজাদ হোসেন, মিঠুন বৈরাগী, ইয়ামিন মাসুম, ছাত্র উপদেষ্টা ড. বাকি বিল্লাহ বিকুল, গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান, ইংরেজি বিভাগের প্রফেসর ড. মিয়া রাশিদুজ্জামান, আইসিটি বিভাগের প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্মণ, প্রফেসর ড. তপন কুমার জোদ্দার, প্রফেসর ড. মাহবুবুল আরফিনসহ ২০/২৫ জন শিক্ষকসহ কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন খান, আব্দুস সালাম সেলিম, আইসিটি সেলের ইলিয়াস জোদ্দার, অঞ্জন দাশ, ইব্রাহীম হোসেন সোনাসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন। এদিন যেকোনো মূল্যে আন্দোলন প্রতিহত করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
মিটিং শেষে তারা বের হয়ে প্রশাসন সামনে আসলে আগস্ট মাস জুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটে চলতে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ ছাত্র-জনতা বন্ধ করে দেয়। এসময় কেন শেখ মুজিবের ভাষণ বন্ধ হলো এ বিষয়ে প্রক্টরিয়াল বডিকে তারা চাপ দিতে থাকেন। পরে সহকারী প্রক্টর ড. আমজাদ হোসেনসহ প্রক্টরিয়াল বডির অন্য সদস্যরা বেশ কয়েকবার মাইক্রোতে করে সমাবেশের পাশ দিয়ে ঘোরা ফেরা করেন। এসময় সমাবেশ পণ্ড করে দেবার জন্য দায়িত্বরত পুলিশদের নির্দেশনা দেন বলে জানা গেছে।
সেদিন ছাত্র আন্দোলন ও তাদের সাথে একাত্মতা পোষণকারী শিক্ষকদের মিছিলে হামলার জন্য উদ্যত হন শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এদিন কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে দেশব্যাপী শিক্ষার্থী ও আমজনতার উপর নির্বিচারে গুলি, হত্যা, গুম, নিপীড়ন, মামলা ও গণ গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকরা। নিপীড়ন ও বৈষম্যবিরোধী সচেতন শিক্ষক সমাজের ব্যানারে মাথায় লাল কাপড় বেঁধে ক্যাম্পাসের বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন তারা।
মিছিল শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকায় একটি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই সমাবেশে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এমতাজ হোসেন, ধর্মতত্ত্ব অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. ছিদ্দিকুর রহমান আশ্রাফী, আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রফেসর ড. তোজাম্মেল হোসেন ও আইন বিভাগের প্রফেসর ড. নুরুন নাহারসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, সেদিনই ছাত্র আন্দোলনের সাথে একাত্মতা পোষণকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার জন্য কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে তালিকা তৈরি করে পরদিন ঢাকায় পাঠায় আওয়ামীপন্থী শিক্ষকের একাংশ। পাশাপাশি অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থায়ও তালিকা পাঠায় তারা। পরেরদিনে ঢাকায় সারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্দোলন দমনে প্রধানমন্ত্রীর ডাকা সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ড. মামুনুর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকায় গমন করে একটি প্রতিনিধি দল।
তবে ছাত্র আন্দোলনের তীব্র চাপে সমাবেশ পন্ডু হয়।
পরদিন ৪ আগস্ট সকালে বিপুলসংখ্যক আওয়ামীপন্থী শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ক্যাম্পাসে এসেই সকাল সাড়ে ৯টায় ভিসির বাংলোতে মিটিংয়ে বসেন এবং ছাত্রদের আন্দোলনকে দমন করার বিষয়ে রক্তস্নাত বইয়ে দেওয়ার জন্য শপথ বাক্য পাঠ করেন। তারই অংশ হিসেবে আওয়ামীপন্থী শিক্ষককের সংগঠন শাপলা ফোরামের ব্যানারে ছাত্র আন্দোলনকে নৈরাজ্য দাবি করে ভিসির বাংলোর সামনে থেকে সাবেক প্রক্টর ড. মাহবুবর রহমানের নেতৃত্বে ‘আর নয় হেলা ফেলা, এবার হবে ফাইনাল খেলা শিরোনামে’ একটি প্রতিবাদ মিছিল শুরু করেন। যার একটি প্রাপ্ত ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত আছে। ভিডিও বিশ্লেষণে, মিছিলটি সাইন্স ফ্যাকাল্টির সামনে আসলে ড. মাহবুবুল আরেফিন, ড. শেলীনা নাসরিনসহ অন্যান্যরা ‘আর নয় হেলাফেলা, এবার হবে ফাইনাল খেলা’সহ বিভিন্ন উগ্র স্লোগান দিতে থাকে। এক পর্যায়ে মিছিলটি অনুষদ ভবনের সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। সেখানেও বক্তারা উগ্র ভাষায় ছাত্রদের আন্দোলন প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়।
পরে বৈষম্য বিরোধীদের একটি মিছিল প্রধান ফটক থেকে ডায়না চত্বরের দিকে অগ্রসর হয়। সূত্র জানায়, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মিছিলে হামলার লক্ষ্যে উদ্যত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন খান, আব্দুল হান্নান, ইব্রাহিম হোসেন সোনা, আব্দুস সালাম সেলিমসহ কয়েকজন কর্মকর্তা। পরবর্তীতে ছাত্র জনতার মিছিলে ব্যাপক উপস্থিতি দেখে তারা বিভিন্ন অনুষদে অবস্থান নেন। এসময় প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্মন ও প্রফেসর ড. তপন কুমার জোদ্দারকে উদ্ধার করে আইসিটি বিভাগের প্রফেসর ড. জাহিদুল ইসলাম।
আওয়ামীপন্থী ও গোয়েন্দাদের পাঠানো ছাত্র আন্দোলনের পক্ষের তালিকায় পাওয়া নামের মধ্যে রয়েছে বিএনপিপন্থী শিক্ষক ড. এমতাজ হোসেন, ড. তোজাম্মেল হোসেন, ড. মতিনুর রহমান, ড. নজিবুল হক, ড. সিদ্দিকুর রহমান আশ্রাফী, ড. শাহীনুজ্জামান, ড. কাজী মোস্তফা আরিফ, ড. মুন্সী মোর্তজা, ড. আব্দুস সবুর, মোহাম্মদ সেলিম, ড. আব্দুস শাহিদ মিয়া, ড. মনজুরুল হক, ড. আ.হ.ম নুরুল ইসলাম, ড. মো. রশিদুজ্জামান, ড. মো. রফিকুল ইসলাম ও ড. এ বি এম জাকির হোসেন।
এছাড়া তালিকায় থাকা জামায়াতপন্থী শিক্ষকরা হলেন, ড. আব্দুল বারী, ড. মো. অলী উল্যাহ, ড. লুৎফর রহমান, ড. নাছির উদ্দিন মিঝি, ড. মোস্তাফিজুর রহমান, ড. আকতার হোসেন, ড. একে এম মফিজুল ইসলাম, ড. কামরুল হাসান, ড. মো. মিজানুর রহমান, ড. আসাদ-উদ-দৌলা বুলবুল ও ড. শামছুল হক সিদ্দিকী।
সূত্রমতে, ২৯ জুলাই থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে নস্যাৎ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক ডেকে এনে আন্দোলন প্রত্যাহার করতে বাধ্য করেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তৎকালীন ভিসি, প্রো-ভিসি, ট্রেজারার, প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা, বিভিন্ন বিভাগীয় সভাপতি, সাবেক প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান ও ড. মাহবুবুল আরেফীনসহ বঙ্গবন্ধু ও শাপলা ফোরামের নেতৃবৃন্দ। সে সময়ে আন্দোলন প্রত্যাহারকারী শিক্ষার্থীরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জুলাই পরবর্তী গত বছরের ১৫ মার্চ জুলাই বিরোধী শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের চিহ্নিতকরণে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে প্রশাসন। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৩১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭১তম সিন্ডিকেট সভায় ১৯ শিক্ষক ও ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত এবং ৩৩ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
একইসঙ্গে, সভায় তাদের শাস্তির মাত্রা নির্ধারণে একটি কমিটি গঠনের কথা বলা হয়। পরে একাধিকবার কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে জুলাই বিরোধী শাস্তি নির্ধারণ কমিটির পর পর দুজন আহ্বায়ক পদত্যাগ করলে কমিটির কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের আল ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের প্রফেসর নাজিমুদ্দিনকে আহ্বায়ক করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত এ কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মাঝে রিপোর্ট পেশ করতে বলা হয়। সর্বশেষ সূত্র মতে আগামী সিন্ডিকেটে এই প্রতিবেদন জমা হতে পারে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুনঃ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে অস্ট্রেলিয়াসহ সবার সরে দাঁড়ানো উচিত: এড্রিয়ান মেরেডিথ
এদিকে একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, জুলাই বিরোধী এ কমিটিসমূহকে প্রথম থেকেই নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি তাদেরকে মৃত্যু হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। যে কারণে কার্যক্রম আগাতে না পেরে পদত্যাগ করে প্রথম কমিটি। একই ধরনের হুমকির কারণে পরপর দুইটি রিভিউ কমিটির সদস্যরাও পদত্যাগ করে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে জুলাই আন্দোলনে একাত্মতা পোষণকারী প্রফেসর ড. নাছির উদ্দীন মিঝি বলেন, যারা আন্দোলনে বিরোধিতা করেছে তাদের ব্যাপারে ভিসিকে বলেছি, রিভিউ কমিটি এমনভাবে করেন যারা নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে। নিরপরাধ কেউ শাস্তি পাওয়ার পক্ষে আমি নই। আবার অপরাধীকে ছাড় দেওয়ার পক্ষেও আমি নই। কিন্তু রিভিউ কমিটি আসলে সঠিকভাবে করতে পারে নাই। হয়তো ভিতরে অনেক সমস্যা আছে। এখানকার বিশাল একটা অংশ আছে যারা দ্বিমুখী আচরণ করতেছে।
এ বিষয়ে জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির আরেক প্রফেসর ড. ছিদ্দিকুর রহমান আশ্রাফী বলেন, জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের অবশ্যই শাস্তি দিতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রশাসন যে পদক্ষেপ নিচ্ছে আমরা এখনো আশাবাদী।
এ বিষয়ে জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির একজন প্রফেসর ড. তোজাম্মেল হোসেন বলেন, সময়ের কাজ যদি সময়ে না করে সেটা অসময় হয় না। এখন দায়িত্ব পালন করতে আগ্রহী হচ্ছে না কারণ মানুষ সবাই এখন নির্বাচনমুখী হয়ে গেছে। আমরা তো বারবার চাপ দিয়েছি। কোনো কাজ হয় না। সে বড় বড় কথা বলে শুধু, কোনো কাজের কাজ হয় না। প্রায় দেড় বছর চলতেছে, ভিসি আসলে নিজে বিচার চায় কি না সেটা আসল প্রশ্ন।
এ বিষয়ে ভিসি প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, প্রশাসন অবশ্যই বিচার করবে। যারা যতটুকু অপরাধ করেছে তাদের ততটুকু জাস্টিস হবে। ইনজাস্টিস হবে না। এজন্য রিভিউ কমিটি এটাই ফাইনাল কমিটি। এরাই সুপারিশ করবে আমরা এর আলোকে কাজ করব।