spot_img

― Advertisement ―

spot_img

জাবিতে পলাশের রঙিন পাপড়িতে নতুন সাজে বসন্তের আগমন

মোঃ আবু বকর সিদ্দিক, জাবি প্রতিনিধিঃ শীতের জরাজীর্ণতা ঝেড়ে ফেলে বসন্ত এসে গেছে। ঋতুরাজের আগমনে পলাশ ফুলের রঙিন পাপড়িতে নতুন সাজে সেজে উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর...
প্রচ্ছদশিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গনক্যাম্পাসজাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিলুপ্তির পথে অতিথি পাখির আগমন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিলুপ্তির পথে অতিথি পাখির আগমন

মোঃ আবু বকর সিদ্দিক, জাবি প্রতিনিধিঃ শীত মৌসুমে অতিথি পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) নানা কারণে উদ্বেগজনক হারে কমছে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা।

প্রতি বছরই নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে শীতপ্রধান বিভিন্ন দেশ ও সুদূর সাইবেরিয়া অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে নিরাপদ আবাসের খোঁজে পাখিরা ভিড় জমায় জাবি ক্যাম্পাসে। তবে গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। ‘অতিথি পাখির স্বর্গ’ হিসেবে পরিচিত এ বিশ্ববিদ্যালয় ধীরে ধীরে হারাতে বসেছে তার ঐতিহ্য।

বিশ্লেষকদের মতে, বহুতল ভবন নির্মাণের শব্দ, পানির গুণগত মানের অবনতি, লেকগুলোর কার্যকর সুয়ারেজ ব্যবস্থা না থাকা, অপরিকল্পিত নগরায়ন, সময়মতো লেক সংস্কার না করা, কনসার্ট ও আতশবাজির শব্দ, অটোরিকশার হর্ন, অপরিকল্পিতভাবে গাছ কাটা, লেক লিজ দেওয়া এবং বহিরাগতদের উৎপাত—এসব কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে অতিথি পাখির আগমন একেবারেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের তথ্যমতে, জাবি ক্যাম্পাসে প্রথম অতিথি পাখির দেখা মেলে ১৯৮৬ সালে। এরপর থেকে প্রতিবছরই এখানে পাখি আসছে। আগে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ১৯৫ প্রজাতির পাখির দেখা মিললেও বর্তমানে দেশি প্রজাতির সংখ্যাই বেশি।

করোনাকালে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় ২০২০ সালে অতিথি পাখির আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। সে বছর প্রায় ৮ হাজার ১২০টি পাখি দেখা যায়, যা সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে পরবর্তী সময়ে সংখ্যা কমতে থাকে।

২০২৬ সালের শীত মৌসুম শেষ হলেও ক্যাম্পাসে সেভাবে দেখা মেলেনি অতিথি পাখিদের। গত কয়েক বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কমসংখ্যক পাখির উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। চৌরঙ্গীর পাশের লেক, পুরাতন রেজিস্ট্রার ভবনের সামনের লেক, বোটানিক্যাল গার্ডেনসংলগ্ন বড় লেক এবং ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টারের পাশের লেকে অল্পসংখ্যক পাখি দেখা গেছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

আরও পড়ুনঃ ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার বিচারের দাবিতে ইবিতে বিক্ষোভ

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী রকিবুর রহমান বলেন, ৯০-এর দশকে যখন আমরা ছাত্র ছিলাম, তখন পাখি উড়লে আকাশ কালো হয়ে যেত। প্রতিটি লেকেই অজস্র পাখি দেখা যেত। কিন্তু গত পাঁচ বছরে অতিথি পাখি আসা এতটাই কমেছে যে এখন শুধু একটি সংরক্ষিত লেকেই কিছু পাখি জমা হয়, তাও সংখ্যায় খুব কম। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাওয়াই এ বিপর্যয়ের মূল কারণ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের এক অধ্যাপক বলেন, অতিথি পাখি না আসার পেছনে অপরিকল্পিত উন্নয়নও অনেকাংশে দায়ী। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্রায় সাড়ে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার ২২টি প্রকল্পের কাজ চলমান। কিন্তু এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট কোনো মাস্টারপ্ল্যান অনুসরণ করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, অতিথি পাখিরা উপর থেকে যখন কোনো অঞ্চলে গাছপালার পরিবর্তে কেবল ভবন দেখতে পায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই সেটিকে অবতরণের উপযুক্ত স্থান হিসেবে নাও ভাবতে পারে। বহুতল ভবন নির্মাণের সময়ই আমরা কর্তৃপক্ষকে এসব উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলাম। যে সবুজ পরিবেশ ছিল, তা আর আগের মতো নেই। এসব কারণেই পাখিরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।