spot_img

― Advertisement ―

spot_img

জাবিতে পলাশের রঙিন পাপড়িতে নতুন সাজে বসন্তের আগমন

মোঃ আবু বকর সিদ্দিক, জাবি প্রতিনিধিঃ শীতের জরাজীর্ণতা ঝেড়ে ফেলে বসন্ত এসে গেছে। ঋতুরাজের আগমনে পলাশ ফুলের রঙিন পাপড়িতে নতুন সাজে সেজে উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর...
প্রচ্ছদশিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গনক্যাম্পাসজাবিতে পলাশের রঙিন পাপড়িতে নতুন সাজে বসন্তের আগমন

জাবিতে পলাশের রঙিন পাপড়িতে নতুন সাজে বসন্তের আগমন

মোঃ আবু বকর সিদ্দিক, জাবি প্রতিনিধিঃ শীতের জরাজীর্ণতা ঝেড়ে ফেলে বসন্ত এসে গেছে। ঋতুরাজের আগমনে পলাশ ফুলের রঙিন পাপড়িতে নতুন সাজে সেজে উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

কংক্রিটের শহুরে জীবনে পলাশের রঙিন আভার দেখা মেলা কষ্টসাধ্য হলেও ব্যতিক্রম শুধু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ডেইরি গেট থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক, টারজান পয়েন্টের প্রবেশপথ, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ সংলগ্ন অমর একুশে ভাস্কর্যের পাশে, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন রাস্তা—যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই পলাশের রক্তিম সৌন্দর্য।

সবুজের বুক চিরে লাল পলাশের এমন উচ্ছ্বাস যেন প্রকৃতির এক অনন্য রূপান্তর। বিকেলের নরম আলোয় এই রঙ আরও গাঢ় হয়ে ওঠে। লেকের জলে তার প্রতিচ্ছবি আঁকে আগুনরেখার মতো দৃশ্য। পলাশের সমারোহ যেন বসন্তের পূর্ণতারই ইঙ্গিত দেয়।

পলাশের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য মন কেড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের। প্রিয়জনের হাতে শোভা পাচ্ছে গাছ থেকে ঝরে পড়া পলাশ ফুল। কেউবা আবার ব্যস্ত একান্ত রঙিন মুহূর্তের ছবি ফ্রেমবন্দি করতে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ৫১তম আবর্তনের শিক্ষার্থী উৎস বড়ুয়া বলেন, বসন্ত এলে পলাশ ফুলের লাল আভায় চারপাশ যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। প্রকৃতিপ্রেমীরা পলাশ ফুলের সৌন্দর্যে বিমোহিত হন, কারণ এই ফুল শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায় না, ঋতু পরিবর্তনের বার্তাও নিয়ে আসে।

তিনি আরও বলেন, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে আগের মতো পলাশ ফুল চোখে পড়ে না। নতুন অবকাঠামো নির্মাণের জন্য যে পরিমাণ গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে, সেই তুলনায় নতুন করে গাছ লাগানো হচ্ছে না। এর ফলেই ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে পলাশ গাছ। প্রকৃতির রং ও সৌন্দর্য ধরে রাখতে হলে এখনই বেশি করে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।

আরও পড়ুনঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিলুপ্তির পথে অতিথি পাখির আগমন

বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে আসা এক দর্শনার্থী নুসরাত জাহান জানান, একসময় বসন্তের সৌন্দর্যে পলাশ গাছ বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলের অলি-গলি ও বাড়িতে দেখা যেত। আধুনিকতা ও নগরায়ণের ছোঁয়ায় পলাশ গাছ কেটে ফেলা এবং বীজ বপন না করায় এসব গাছের অস্তিত্ব এখন হুমকির মুখে। সৌন্দর্যবর্ধক গাছগুলো দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বৈশ্বিক দূষণ ও জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের ফলে ধীরে ধীরে প্রতিটি ঋতুই হারাচ্ছে তার নিজস্ব বৈচিত্র ও সৌন্দর্য। প্রকৃতির স্বরূপ ফিরিয়ে দিতে প্রয়োজন ব্যাপক বৃক্ষরোপণ।

প্রসঙ্গত, ফাগুনের এই সৌন্দর্য ক্ষণস্থায়ী। কয়েকদিন পরই ঝরে যাবে পলাশের রঙিন পাপড়ি, বদলে যাবে দৃশ্যপট। তবু স্মৃতিতে থেকে যাবে লাল রঙে ভেজা এই দিনগুলো—বসন্তের উচ্ছ্বাস।