

তাওহিদ ইসলাম, ইবি প্রতিনিধিঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন বিভাগের দুই বন্ধু হাসানুর রহমান ও রাফিউল আলম রাফি একসঙ্গে অ্যাডভোকেট ও আয়কর আইনজীবী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
২০১৭-১৮ বর্ষের এই দুই শিক্ষার্থী সম্প্রতি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অ্যাডভোকেটশিপ এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অ্যাডভোকেট হয়েছেন। এর আগে ২০২৫ সালে তারা আয়কর আইনজীবী (ইনকাম ট্যাক্স প্র্যাকটিশনার) হিসেবে স্বীকৃতি পান।
হাসানুর রহমানের বাড়ি রাজবাড়ীর পাংশায়, আর রাফিউল আলম রাফির বাড়ি পিরোজপুর সদরে। দূরত্ব কয়েকশ মাইলের হলেও ইবির আইন বিভাগ তাদের এক সুতোয় গেঁথেছিল। দুজনেই স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়ে মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন।
২০২৪ সালে পরীক্ষা দিয়ে ২০২৫ সালে তারা যখন আয়কর আইনজীবী হিসেবে স্বীকৃতি পান, তখন থেকেই শুরু হয় বড় স্বপ্নের পথে চূড়ান্ত লড়াই। অবশেষে ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ প্রকাশিত বার কাউন্সিলের ফলাফলে তারা সফলতার চূড়ান্ত সোপান স্পর্শ করেন।
নিজেদের এ অর্জনের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তারা বলেন, আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া। শুরু থেকেই এই পথে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য ছিল। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, ধৈর্য ও অপেক্ষার পর কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এই সাফল্যের পেছনে আমাদের পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুপ্রেরণা এবং সমর্থন বড় ভূমিকা রেখেছে।
আরও পড়ুনঃ আব্দুল্লাহপুরে ঈদ যাত্রীদের চাপ, বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ
বিশেষায়িত আয়কর আইন পেশায় আগ্রহের কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো শক্তিশালী করতে আয়কর খাতের ভূমিকা অপরিসীম। এখানে স্বচ্ছভাবে কাজ করার সুযোগ যেমন আছে, তেমনি রয়েছে সামাজিক মর্যাদা।
তবে এই পথ সহজ ছিল না। আইন নিয়ে পড়লেও আয়কর ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্টিংয়ের জটিল বিষয়গুলো তাদের জন্য ছিল নতুন। প্রচলিত অ্যাডভোকেট হওয়ার সামাজিক চাপের বাইরে গিয়ে বিশেষায়িত সেক্টরে নিজেদের প্রমাণ করাটা ছিল তাদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ।
নবীনদের উদ্দেশ্যে তারা বলেন, লক্ষ্য স্থির রেখে পরিকল্পিতভাবে পরিশ্রম করতে হবে। আইনের মৌলিক বিষয়ে দক্ষতার পাশাপাশি অভিজ্ঞদের থেকে সঠিক গাইডলাইন নেওয়াটা সাফল্যের চাবিকাঠি।