

আলি উল আজিম নিলয়, জবি প্রতিনিধিঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁকে থাপ্পড় মারা ছাত্রী সাদিয়া সুলতানাকে সাময়িক বহিষ্কারের নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রতারণা করেছে—এমন অভিযোগ তুলে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সোমবার জর্জিস আনোয়ার তার পদত্যাগপত্র জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলামের কাছে জমা দেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে আসা তার জন্য মানসিকভাবে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। কারণ ক্যাম্পাসে এলেই ঘটনার স্মৃতি সামনে চলে আসে, যা তাকে মানসিকভাবে পীড়া দেয়। এ কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পদত্যাগের মূল কারণ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বিমুখী অবস্থানকে দায়ী করে তিনি বলেন, তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত ছাত্রীকে সাময়িক বহিষ্কার করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং উপাচার্য সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। কিন্তু পরদিনই ওই ছাত্রীকে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, যা বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, সাময়িক বহিষ্কারের পরও যদি সব কার্যক্রমে অংশ নেওয়া যায়, তাহলে সেটি প্রকৃত বহিষ্কার নয়, বরং এটি একটি প্রহসন।
পরে রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জর্জিস আনোয়ার নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি ভিপির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং পরবর্তী প্রক্রিয়া অনুযায়ী তা উপাচার্যের কাছে পাঠানো হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ মাভাবিপ্রবিতে বায়োকেমিস্ট্রি সেমিনার, গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্বারোপ
তিনি বিচার দাবি করে বলেন, যদি সংশ্লিষ্টরা বিচার না করেন, তবে আল্লাহই ন্যায়বিচার করবেন—এই বিশ্বাসে তিনি আস্থাশীল। একই সঙ্গে নিজের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
এদিকে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, জর্জিস আনোয়ার পদত্যাগপত্র জমা দিলেও তা এখনো গ্রহণ করা হয়নি।
তিনি বলেন, অভিমান থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে হচ্ছে। বিষয়টি কার্যকরী পরিষদে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।