

আলি উল আজিম নিলয়, জবি প্রতিনিধিঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ১২তম ব্যাচ এবং ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইল অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আগামী ১৭ মে ২০২৬ থেকে এসব ইমেইল অ্যাকাউন্ট আর কার্যকর থাকবে না বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেল।
গত বুধবার (১৩ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গুগলের প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইল সেবা ‘গুগল জি-সুইট’ এর নির্ধারিত সীমাবদ্ধতার কারণে পুরোনো শিক্ষার্থীদের ইমেইল অ্যাকাউন্ট অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইল ব্যবহার করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ও পেশাগত কাজ করে আসছেন। উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন, গবেষণামূলক কাজ, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন, অনলাইন স্টোরেজ ব্যবহারের পাশাপাশি অনেকেই ব্যক্তিগত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণেও এসব ইমেইল ব্যবহার করতেন। ফলে হঠাৎ করে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও ডাটা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাকআপ করে রাখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়ার পর তথ্য পুনরুদ্ধারের সুযোগ নাও থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, “গুগল জি-সুইট সেবার স্টোরেজ সীমাবদ্ধতা এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত কারণে আমাদের এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। আমরা চাই না কোনো শিক্ষার্থীর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হারিয়ে যাক। তাই সবাইকে সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় ডাটা সংরক্ষণ করার অনুরোধ জানিয়েছি।”
তবে শিক্ষার্থীদের জন্য কিছুটা আশার কথাও জানিয়েছেন তিনি। অধ্যাপক নাসির উদ্দিন বলেন, “যদি কারো একান্ত প্রয়োজন হয়, তাহলে আইসিটি সেলের ডিরেক্টরের ইমেইলে আবেদন করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস জমা দিতে হবে। কেউ যদি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করে থাকেন বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক কাজে এই ইমেইল ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে তার প্রমাণপত্র জমা দিলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।”
তিনি আরও জানান, আবেদনকারীদের সত্যতা যাচাইয়ের পর বিশেষ ক্ষেত্রে কিছু ইমেইল অ্যাকাউন্ট চালু রাখার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এজন্য শিক্ষার্থীদের ictcell@jnu.ac.bd ঠিকানায় আবেদন করতে বলা হয়েছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইল শুধুমাত্র একটি যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং এটি তাদের একাডেমিক পরিচয়েরও অংশ। হঠাৎ করে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিলে বহু শিক্ষার্থী বিপাকে পড়তে পারেন।
আরও পড়ুনঃ ইবি ছাত্রদলে নতুন কমিটি, ত্যাগীদের মূল্যায়ন চায় নেতাকর্মীরা
১২তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমার বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য বিভিন্ন আবেদনপত্র এবং গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টস এই ইমেইলে সংরক্ষিত রয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে সবকিছু স্থানান্তর করা কঠিন হয়ে পড়ছে।”
আরেক শিক্ষার্থী জানান, “অনেক অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই ইমেইল ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। হঠাৎ ইমেইল বন্ধ হয়ে গেলে ভবিষ্যতে সেসব অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতেও সমস্যা হতে পারে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকও বিষয়টিকে সংবেদনশীল বলে উল্লেখ করেছেন। তারা বলছেন, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা থাকলেও শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিকল্প ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন ছিল। বিশেষ করে যারা এখনো উচ্চশিক্ষা, গবেষণা বা পেশাগত কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেইল ব্যবহার করছেন, তাদের জন্য একটি ট্রানজিশন পিরিয়ড বা বিকল্প সুবিধা চালু করা দরকার।
প্রসঙ্গত, বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক শিক্ষার্থীদের জন্যও সীমিত আকারে প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইল সেবা চালু রাখার নজির রয়েছে। তবে স্টোরেজ ব্যয় ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই ধীরে ধীরে পুরোনো অ্যাকাউন্ট বন্ধের পথে হাঁটছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ও পুরোনো ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ইমেইল সেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিল।