

আলি উল আজিম নিলয়, জবি প্রতিনিধিঃ 'লংমার্চ টু যমুনা' আন্দোলনের সময় রাষ্ট্রের দেওয়া বিশেষ বৃত্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বৃদ্ধি এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি।
রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন এবং শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
সমাবেশে জাতীয় ছাত্রশক্তির জবি শাখার আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ বলেন, যমুনা আন্দোলনের সময় রাষ্ট্র শিক্ষার্থীদের জন্য যে বিশেষ বৃত্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। সরকার থেকে ৫৬ কোটি টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীরা এখন পর্যন্ত এককালীনভাবে পেয়েছে মাত্র ১০ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, বর্তমান উপাচার্যের কাছে আমাদের অনুরোধ—রাষ্ট্রের দেওয়া এই প্রতিশ্রুতির বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য বাকি অর্থ আদায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। একই সঙ্গে আগের প্রশাসনের গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার কারণে শিক্ষার্থীরা যে সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে, সে বিষয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
শাখা ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক ফেরদৌস শেখ বলেন, পুরান ঢাকায় নির্মাণাধীন দুটি হল এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় ফেজের কাজ নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়নে সব বাধা-বিপত্তির বিরুদ্ধে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।
আরও পড়ুনঃ মাভাবিপ্রবিতে ‘টেক্সটাইল ও ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত
শাখা ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব শাহিন মিয়া বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছেন। সর্বশেষ 'লংমার্চ টু যমুনা' কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার থেকে ৫৬ কোটি টাকার প্রতিশ্রুতি আদায় করা হয়েছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবহেলার কারণে সেই অর্থ এখনো পুরোপুরি পাওয়া সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে এই প্রতিশ্রুতি অস্বীকারের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে প্রয়োজনীয় সব কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে।
সমাবেশ থেকে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলন ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।