

আলি উল আজিম নিলয়, জবি প্রতিনিধিঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের সামনে বাজেট বৈষম্য নিরসন ও বিশেষ বৃত্তি বাস্তবায়নের দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছে জবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি।
বুধবার (১৭ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমীনের বক্তব্য চলাকালীন সময়ে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা নিজেদের দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় কোনো ধরনের বাধা না দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নিজেই প্ল্যাকার্ডধারী শিক্ষার্থীদের কাছে ডেকে নেন এবং তাদের দাবিগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়েন।
প্রতিবাদে প্রদর্শিত প্ল্যাকার্ডে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সম্পূরক বৃত্তি চালুর দাবি জানানো হয়। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— ‘বেগম জিয়ার হাতে গড়া দুই দশকের ইতিহাস, বাজেটের পাতায় বৈষম্য আর জবিয়ানদের দীর্ঘশ্বাস’, ‘রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার, সম্পূরক বৃত্তি জবিয়ানদের অধিকার’ এবং ‘যমুনার অঙ্গীকার, রাজস্ব বাজেট বৃদ্ধি জবিয়ানদের অধিকার’।
এ বিষয়ে জবি ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফয়সাল মুরাদ বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও এর শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে বাজেট বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। সর্বশেষ ঘোষিত বাজেটেও এই বৈষম্য অব্যাহত রয়েছে।”
তিনি বলেন, “যমুনা আন্দোলনের সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূরক বৃত্তি চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, যা রাজস্ব বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে এখনো তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এ কারণেই আজকের এই প্রতিবাদ।”
আরও পড়ুনঃ আইটিইটি নির্বাচন: আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগকে ‘গঠনতন্ত্র পরিপন্থী নয়’ দাবি জিজি প্যানেলের
জবি ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব শাহিন মিয়া বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অধিকারবঞ্চিত। আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নীতিনির্ধারককে ক্যাম্পাসে পাওয়া গেছে, তাই শিক্ষার্থীদের বঞ্চনার বিষয়গুলো প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে তুলে ধরেছি।”
শাখা ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক ফেরদৌস শেখ বলেন, “বছরের পর বছর জমে থাকা প্রশ্ন, ক্ষোভ ও প্রত্যাশা আজ শিক্ষামন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হয়েছে। প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা আশা করি, এই বার্তা শুধু দেখা বা শোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় তার প্রাপ্য মর্যাদা ফিরে পাবে।”