

আলি উল আজিম নিলয়, জবি প্রতিনিধিঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) প্রথমবারের মতো ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-২০১৭ থেকে ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের চারটি ব্যাচের স্নাতক পর্যায়ের ১০৪ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
বুধবার (১৭ জুন ২০২৬) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন, এমপি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চার শিক্ষাবর্ষের বিভিন্ন অনুষদের মোট ১০৪ জন শিক্ষার্থী এ অ্যাওয়ার্ডের জন্য নির্বাচিত হন। এর মধ্যে ২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষের ৭টি অনুষদের ২৪টি বিভাগের ২৪ জন, ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের ৭টি অনুষদের ২৫টি বিভাগের ২৫ জন, ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের ৭টি অনুষদের ২৮টি বিভাগের ২৮ জন এবং ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের ৫টি অনুষদের ২৭টি বিভাগের ২৭ জন শিক্ষার্থী এ সম্মাননা অর্জন করেন।
অনুষ্ঠানে নিজ নিজ অনুষদের ডিনরা অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। কলা অনুষদের ২১ জন শিক্ষার্থীর নাম ঘোষণা করেন অধ্যাপক ড. আরজুমন্দ আরা বানু, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ১৬ জন শিক্ষার্থীর নাম ঘোষণা করেন অধ্যাপক ড. মোহাঃ আলী নূর, বিজ্ঞান অনুষদের ১৫ জন শিক্ষার্থীর নাম ঘোষণা করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দ আলম, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ১৭ জন শিক্ষার্থীর নাম ঘোষণা করেন অধ্যাপক ড. সানজিদা ফরহানা। এছাড়া আইন অনুষদ, লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদ এবং চারুকলা অনুষদের অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নামও সংশ্লিষ্ট ডিনরা ঘোষণা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ২১ বছর পর প্রথমবারের মতো ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করতে এ ধরনের স্বীকৃতির গুরুত্ব অনেক।
তিনি বলেন, পুরস্কার শিক্ষার্থীদের উৎকর্ষ সাধনে অনুপ্রেরণা জোগায় এবং তাদের দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়ে দেয়। ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জীবনের মূল্যবান সময় অপচয় না করে প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগাতে হবে। দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, আজকের দিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। নানা সীমাবদ্ধতা ও সংকটের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের মেধা ও সাফল্যের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের এই স্বীকৃতির মর্যাদা ধরে রেখে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য যৌক্তিক বৃত্তি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, আবাসন সংকট নিরসন এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ বলেন, এ ধরনের আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন অগ্রযাত্রার সূচনা করেছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রমে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
আরও পড়ুনঃ শিক্ষামন্ত্রীর সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে বাজেট বৈষম্যের প্রতিবাদ জবি ছাত্রশক্তির
শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক বলেন, পুরস্কার শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ও কাজের আগ্রহ তৈরি করে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রমে সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, ডিনস অ্যাওয়ার্ড শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল। বর্তমান প্রশাসনের উদ্যোগে এটি বাস্তবায়ন হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. পরিমল বালা। পরে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউট পরিচালক, প্রক্টর, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, প্রভোস্ট, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষতার স্বীকৃতি দেওয়ার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।