

তাওহিদ ইসলাম, ইবি প্রতিনিধিঃ নানামুখী বিতর্ক ও অভ্যন্তরীণ জটিলতার কারণে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন জিয়া পরিষদের কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক, নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি এবং বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার (১৭ জুন) নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. আ.খ.ম. ওয়ালী উল্লাহ জানান, ভোটার তালিকায় সমস্যা ও অন্যান্য অভিযোগের কারণে আপাতত নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই ও সমাধানের পর নতুন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হবে।
জানা যায়, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খানকে সভাপতি এবং আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে জিয়া পরিষদ ইবি শাখার কমিটি গঠন করা হয়। চলতি বছরে কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আ.খ.ম. ওয়ালী উল্লাহকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন আগামী ২৪ জুন নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
তবে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। সংগঠনটির খসড়া ভোটার তালিকায় একই সঙ্গে আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সংগঠন শাপলা ফোরাম ও বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠন জিয়া পরিষদের ভোটার তালিকায় একই শিক্ষকের নাম পাওয়া যায়।
প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত শাপলা ফোরামের কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনের ভোটার তালিকায় ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজগর হোসেনের নাম ১৩১ নম্বরে রয়েছে। অন্যদিকে গত ১৫ জুন প্রকাশিত জিয়া পরিষদের ২০২৬ সালের কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকায়ও তার নাম ২৩ নম্বর ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিপরীত রাজনৈতিক আদর্শের দুই শিক্ষক সংগঠনের নির্বাচনী তালিকায় একই ব্যক্তির নাম থাকায় শিক্ষক মহলে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এছাড়া নতুন করে সদস্য হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ শিক্ষক জিয়া পরিষদের সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন করলেও তাদের খসড়া ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ বিষয়েও সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. আ.খ.ম. ওয়ালী উল্লাহ বলেন, “জিয়া পরিষদের কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। ভোটার তালিকার সমস্যা এবং আরও কিছু অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। সেগুলো সমাধান করে নতুন সিডিউল ঘোষণা করা হবে। ভোটার তালিকা ও নতুন সদস্য সংযুক্তির বিষয়ে সংগঠন সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করবো।”
আরও পড়ুনঃ বিশ্ববিদ্যালয়কে পাল্টে দেওয়ার সময় এসেছে: বোতল ফিডিং আর কত দিন?
জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, “নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, তবে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। অধ্যাপক আজগর হোসেনের বিষয়ে আমরা আগে অবগত ছিলাম না। তবে তাকে দীর্ঘদিন ধরে জিয়া পরিষদের ভোটার তালিকায় দেখে আসছি। নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে।”
তবে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে একই শিক্ষককে দুই ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের শিক্ষক সংগঠনের ভোটার তালিকায় পাওয়া এবং নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে ইবির শিক্ষক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নির্বাচন আয়োজনের আগে এসব বিতর্কের সমাধান না হলে সংগঠনের সাংগঠনিক স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাবে।