

আলি উল আজিম নিলয়, জবি প্রতিনিধিঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় গেটের পাশে ছোট্ট একটি পানের দোকান চালায় সাদ্দাম। বয়স মাত্র ১০ বছর। যে বয়সে তার স্কুলে যাওয়ার কথা, সেই বয়সেই পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে জীবিকার সন্ধানে রাস্তায় নেমেছে সে। এবার তার পাশে দাড়ালেন জবি ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার।
রোববার (২২ জুন) সাদ্দামের সঙ্গে দেখা করে তার খোঁজখবর নেন শাহরিয়ার হোসেন। এ সময় তিনি সাদ্দামের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন এবং ভবিষ্যতেও তার পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
চার ভাইবোন ও মায়ের দায়িত্ব অনেকটাই এখন তার ওপর। পরিবারের খোঁজখবর নেন না বাবা। বড় ভাই জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। ফলে অভাব-অনটনের মধ্যেও পরিবারের জন্য প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যাচ্ছে শিশুটি।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে সাদ্দামের জীবনসংগ্রামের খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের। এরপর অসহায় এই শিশুর পাশে দাঁড়ান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শাহরিয়ার হোসেন।
শাহরিয়ার হোসেন বলেন, “সাদ্দামের গল্প শুনে খুব কষ্ট পেয়েছি। যে বয়সে তার পড়াশোনা ও খেলাধুলা করার কথা, সেই বয়সে তাকে পরিবারের দায়িত্ব নিতে হচ্ছে। সমাজের বিত্তবান মানুষ ও দায়িত্বশীলদের এমন অসহায় শিশুদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। আমার সামর্থ্যের জায়গা থেকে তার জন্য কিছু করার চেষ্টা করেছি।”
আরও পড়ুনঃ মোফাজ্জল মোমেনা মহিলা কলেজে এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, “সাদ্দামের মতো অসংখ্য শিশু দারিদ্র্যের কারণে তাদের শৈশব হারাচ্ছে। তাদের শিক্ষা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ছাত্রদল সবসময় অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে।”
ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, “মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই ছাত্রদল পরিবার সাদ্দামের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা চাই সমাজের অন্যান্য সংগঠন ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরাও এমন শিশুদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসুক। সম্মিলিত উদ্যোগেই তাদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব।”
সহায়তা পেয়ে সাদ্দাম ও তার পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এভাবে এগিয়ে এলে তাদের মতো অসহায় পরিবারগুলোর কষ্ট অনেকটাই কমবে।