

তাওহিদ ইসলাম, ইবি প্রতিনিধিঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে অবস্থিত স্থায়ী ও অস্থায়ী খাবার হোটেলগুলোর জন্য নতুন মূল্যতালিকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে এ মূল্যতালিকা কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও কনজ্যুমার ইয়ুথ বাংলাদেশ (সিওয়াইবি) ইবি শাখা।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান এবং সিওয়াইবি ইবি শাখার সভাপতি নূর হোসাইন আল রিফাত স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও সিওয়াইবি ইবি শাখার যৌথ উদ্যোগে নতুন এ মূল্যতালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে ভাত, খিচুড়ি, ডিম, মাছ, মুরগি ও বিভিন্ন ধরনের মাংসের নির্ধারিত মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ফুল প্লেট ভাতের দাম ১৫ টাকা, হাফ প্লেট ১০ টাকা এবং খিচুড়ির মূল্য ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভর্তা, ভাজি ও ঘন ডালের দাম রাখা হয়েছে ৫ টাকা। ডিমভাজি ২০ টাকা এবং রান্না করা ডিম ২৫ টাকায় বিক্রি করা হবে।
মাছের মধ্যে প্রতি পিস পাঙ্গাশ, তেলাপিয়া, সিলভারকার্প ও ব্রিগেড মাছের মূল্য ৩০ টাকা এবং রুই মাছের মূল্য ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া দুই পিস পাবদা মাছ ৪০ টাকা, দুই পিস ছোট শিং মাছ ৩০ টাকা, এক পিস বড় শিং মাছ ৩৫ টাকা, এক পিস বাটা মাছ ৩০ টাকা, এক বাটি ছোট মাছ ৪০ টাকা এবং এক বাটি লটপটির দাম ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ৪৭তম বিসিএসে বুটেক্সের ১৮ শিক্ষার্থীর সাফল্য
অন্যদিকে, প্রতি পিস ব্রয়লার মুরগির মূল্য ৩০ টাকা, সোনালী মুরগি ৫০ টাকা, গরুর মাংস ৬০ টাকা এবং খাসির মাংস ৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সিওয়াইবি ইবি শাখার সভাপতি নূর হোসাইন আল রিফাত বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসের খাবার হোটেলগুলোতে কার্যকর কোনো মূল্যতালিকা না থাকায় শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন। প্রায় দুই বছর আগে নির্ধারিত মূল্যতালিকা বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় নতুন তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে কিছু খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ানো হলেও মূল্য নির্ধারণে বর্তমান বাজারদর, ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক ব্যয় এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ ক্যাম্পাসের খাদ্যসেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, গত ২৭ জুন ক্যাম্পাসের হোটেল মালিক ও সিওয়াইবি প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খাবারের মান নিশ্চিত করতে হোটেলগুলোকে প্যাকেটজাত লবণ, বোতলজাত তেল, আটাশ ও কাজললতা চাল ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গত দুই মাসের বাজারদর পর্যবেক্ষণ করেই নতুন মূল্যতালিকা নির্ধারণ করা হয়েছে।