

তাওহিদ ইসলাম, ইবি প্রতিনিধিঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক মোছা. আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অধিকতর তদন্তের জন্য চার সদস্যের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৯ জুন অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭৪তম (সাধারণ) সিন্ডিকেট সভার ৩২ নম্বর প্রস্তাব ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এর আগে উপাচার্য কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি অধিকতর তদন্তের স্বার্থে নতুন উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে উপাচার্যের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গঠিত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলীকে। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন একাডেমিক শাখার উপ-রেজিস্ট্রার মাছুদুল হক তালুকদার। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (পিআরএল) ড. আশরাফুর রহমান এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ড. মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন।
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের দ্বিতীয় তলায় সমাজকল্যাণ বিভাগের নিজ কক্ষে সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ফজলুর রহমান এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পরে নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। শিক্ষিকার চিৎকার শুনে আনসার সদস্য ও শিক্ষার্থীরা দরজা ভেঙে দুজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুনঃ ইবি ক্যাম্পাসের হোটেলগুলোতে খাবারের নতুন মূল্যতালিকা, কার্যকর ১ জুলাই থেকে
ঘটনার পর নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় কর্মচারী ফজলুর রহমানকে। এছাড়া সাবেক উপ-রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমানকে আসামি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রধান আসামি ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এর আগে, গত ৭ মার্চ হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং উপ-রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) মো. গোলাম মওলাকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি আরও গভীরভাবে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।