

তাওহিদ ইসলাম, ইবি প্রতিনিধিঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগে প্রভাষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একই বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী ফিরোজা নাজনিনকে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়ার পর বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগগুলো গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় ওই নিয়োগ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ফিরোজা নাজনিন আইসিটি বিভাগের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তার একাডেমিক মূল্যায়নের সঙ্গে বর্তমান স্বামী অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলামের সম্পৃক্ততা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকরা বিভাগে গেলে বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. তারেক হাসান আল-মাহমুদের বিরুদ্ধে তথ্য দিতে গড়িমসির অভিযোগ ওঠে।
সাংবাদিকদের দাবি, বুধবার দুপুর থেকে কয়েক ঘণ্টা বিভাগে অবস্থান করেও তারা প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাননি। প্রথমে লিখিত আবেদন চাওয়া হয় এবং পরে বিভিন্ন আলোচনার মাধ্যমে সময়ক্ষেপণ করা হয়। পরে সাংবাদিকরা পুনরায় তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেনের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, মূল নথি প্রদর্শন না করে প্রায় চার ঘণ্টা পর এ-ফোর কাগজে হাতে লেখা তথ্য সরবরাহ করা হয়। তবে এসব তথ্যের কোনো আনুষ্ঠানিক বৈধতা রয়েছে কি না জানতে চাইলে বিভাগীয় সভাপতির কাছ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এদিকে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থী ফিরোজা নাজনিনের একাডেমিক যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রথম বর্ষের একটি কোর্সে অকৃতকার্য হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে মানোন্নয়ন পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হন। এছাড়া মাস্টার্স পর্যায়ে তিনি নন-থিসিসধারী ছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
আরও জানা গেছে, ফিরোজা নাজনিন তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নকালে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার কমিটির সভাপতি ছিলেন অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই সময় তার ফলাফলে অস্বাভাবিক উন্নতি দেখা যায়। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ড. জাহিদুল ইসলাম বলেন, তাদের বিয়ে হয়েছে ২০১৪ সালে এবং শিক্ষাজীবনের ফলাফলে তার কোনো ধরনের প্রভাব ছিল না।
আরও পড়ুনঃ টেক্সটাইল ক্যাডার অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সুবিবেচনা করবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী মিলন
নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে আরও একটি অভিযোগ হলো, নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. চৌধুরী ফারহান আহমেদের সঙ্গে অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলামের সাক্ষাৎ হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কুষ্টিয়ার একটি আবাসিক হোটেলে তাদের এই সাক্ষাৎ হয় এবং সেখানে বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. তারেক হাসান আল-মাহমুদও উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্যান্য প্রার্থীরা।
অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, “যে নিয়োগটির বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে, সেটি আমি ব্যক্তিগতভাবে যাচাই-বাছাই করে দেখব।”
নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগ এবং তথ্যপ্রাপ্তিতে জটিলতার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও স্বচ্ছ সমাধানের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।