

আলি উল আজিম নিলয়, জবি প্রতিনিধিঃ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গত ৪ আগস্ট সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ এবং পারস্পরিক ঐক্য ও সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সমঝোতা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সার্বজনীন ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে তাঁর সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় মত ও পথের ভিন্নতা থাকলেও অন্যের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং সহনশীল ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে অংশগ্রহণকারীরা ঐকমত্যে পৌঁছান।
সভায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় ছাত্রসংগঠনগুলোর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে ১৫ দফা প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়। এসব প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সার্বজনীন ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় গত ৪ আগস্টের সংঘর্ষের প্রেক্ষাপট ও পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে সব মত ও সংগঠনের পারস্পরিক সহাবস্থান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন অংশগ্রহণকারীরা।
সভায় ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য কামাল হোসেন, ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ও বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সুরুজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এস এম ফরহাদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. মোশাররাফ হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া, সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন এবং সহকারী প্রক্টররা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া জকসুর ভিপি, জিএসসহ অন্যান্য প্রতিনিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন—জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ছাত্র অধিকার পরিষদ, ছাত্রশক্তি, খেলাফত ছাত্র মজলিস ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতারাও সভায় অংশ নেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে লালবাগ জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) তালেবুর রহমান, সহকারী কমিশনার (এসি) বদরুল হক, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে দুস্থদের মাঝে জবি ছাত্রদল নেতার খাবার বিতরণ
সভা শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, জকসুর সভাপতির উপস্থাপিত প্রস্তাবনার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নিয়ে একটি সমন্বিত ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ তৈরি করা হবে। ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে ছাত্রসংগঠনগুলোর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে এটি নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে।
তিনি বলেন, “মত ও সংগঠন যার যার, জবি পরিবার আমার, সবার”— এই চেতনাকে ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সংগঠনকে সৌহার্দ্য, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। মত ও পথের ভিন্নতা গণতান্ত্রিক পরিবেশের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। তবে সেই ভিন্নতার মধ্যেও অন্যের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান করাই সুন্দর ও সহাবস্থানমূলক ক্যাম্পাস সংস্কৃতির ভিত্তি।
উপাচার্য আরও বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও অবস্থান ভিন্ন হতে পারে এবং ভুল বা অসংগতির সমালোচনাও হতে পারে। তবে কোনো অবস্থাতেই ব্যক্তিগত আক্রমণ, অশালীন ভাষা কিংবা পারিবারিক পরিচয় তুলে অবমাননাকর বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শালীনতার মধ্য দিয়েই মতপার্থক্যের চর্চা করা উচিত।