
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর ইসরায়েলের কারাগারগুলোতে যৌন নির্যাতন ও সহিংসতা, শারীরিক নির্যাতন ও মানসিক নিপীড়নকে একটি ‘সংগঠিত রাষ্ট্রীয় নীতি’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Middle East Eye–এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সাবেক বন্দিদের সাক্ষ্য, মানবাধিকার সংস্থার তথ্য এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের বক্তব্যের ভিত্তিতে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে।
প্রতিবেদনে একাধিক সাবেক ফিলিস্তিনি বন্দি জানিয়েছেন, আটক অবস্থায় তারা ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কারা কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা সদস্যরা নিয়মিতভাবে অপমান, মারধর, জোরপূর্বক তল্লাশি, খাদ্য ও চিকিৎসা থেকে বঞ্চিতকরণ এবং যৌন নির্যাতনের মাধ্যমে ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে রাখে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় যৌন সহিংসতাকে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
এক সাবেক বন্দি বলেন, নির্যাতনের মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে তিনি বহুবার মৃত্যুকামনা করেছিলেন। অন্য এক বন্দির দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে ঘুম থেকে বঞ্চিত রাখা, হাত-পা বেঁধে রাখা এবং অমানবিক পরিবেশে আটকে রাখা হয়েছিল। এছাড়া গুরুতর অসুস্থ বন্দিদের ক্ষেত্রেও চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ইবি ভর্তি পরীক্ষায় শৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় বিএনসিসি-রোভার স্কাউট
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং এটি একটি সুসংগঠিত পদ্ধতির অংশ। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা B’Tselem পূর্বে তাদের এক প্রতিবেদনে কারাগারগুলোকে ‘নির্যাতন শিবিরের নেটওয়ার্ক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কমিটিও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে একে ‘সংগঠিত ও ব্যাপক নির্যাতনের নীতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
তবে ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, বন্দিদের সঙ্গে আইন অনুযায়ী আচরণ করা হয়। যদিও আন্তর্জাতিক মহলে এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে এবং স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।



