

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিটার হেক্সেত্থ জানিয়েছেন, ইরান যদি চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় কোনো চুক্তিতে সম্মত না হয়, তাহলে মার্কিন বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) পেন্টাগনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আগের চেয়ে আরও বেশি সামরিক সক্ষমতা ও উন্নত গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার ভাষায়, “আমরা আগের চেয়েও বেশি শক্তি নিয়ে প্রস্তুত রয়েছি।”
হেগসেথ ইরানকে উদ্দেশ করে বলেন, দেশটির সামনে একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তাদের ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করা হবে এবং প্রয়োজন হলে অবকাঠামো, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও জ্বালানি খাতে হামলা চালানো হতে পারে।
পেন্টাগনের এই ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে ইতোমধ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর নজরদারি ও অবরোধ কার্যকর করা হয়েছে। ইরানে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হতে চাওয়া সব জাহাজ এই অবরোধের আওতায় থাকবে।
এদিকে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন বলেন, ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ কিংবা ইরানকে উপকরণগত সহায়তা দিতে চাওয়া যেকোনো জাহাজকে সক্রিয়ভাবে অনুসরণ করা হবে।
আরও পড়ুনঃ ২০৩০এর মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত
তিনি বলেন, অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে আটক ও সতর্ক করা হবে। কেউ যদি নির্দেশনা মানতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে শক্তি প্রয়োগ করা হবে। আন্তর্জাতিক জলসীমা এবং ইরানের আঞ্চলিক জলসীমা—উভয় স্থানেই এই অবরোধ কার্যকর থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রেখেছে বলেও পেন্টাগন সূত্র জানিয়েছে।