

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালু হলেও আগামী ৯০ দিন অবৈধ মোবাইল কিংবা ক্লোন করা হ্যান্ডসেট বন্ধ করা হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি গ্রাহকদের উদ্দেশে এ তথ্য জানান। পোস্টে ফয়েজ তৈয়্যব বলেন, এনইআইআর চালুর পরও আগামী ৯০ দিন কারো অবৈধ বা ক্লোন হ্যান্ডসেট বন্ধ হবে না। এ কারণে তিনি সবাইকে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ জানান।
এনআইডিতে অনেকের ক্ষেত্রে সচল ফোন বা সিমের সংখ্যা বেশি দেখানোর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, মোবাইল অপারেটরদের কাছ থেকে প্রায় তিন বিলিয়নের বেশি ডেটাসেট সংগ্রহ করা হয়েছে। অপারেটররা তাদের হিস্টোরিক ডেটাসহ সব তথ্য সিস্টেমে যুক্ত করেছে। তবে মাইগ্রেশনের তারিখ বর্তমান সময় দেখানো হওয়ায় অনেকের এনআইডিতে অতিরিক্ত সচল সিম বা হ্যান্ডসেটের সংখ্যা দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি সমাধানে বিটিআরসি ও মোবাইল অপারেটররা যৌথভাবে কাজ করছে। ধাপে ধাপে হিস্টোরিক ডেটা ব্যাকগ্রাউন্ডে আর্কাইভ করে কেবল বর্তমানে সচল হ্যান্ডসেটের তথ্য দেখানো হবে, তবে এতে কিছুটা সময় লাগবে বলে তিনি জানান।
এনইআইআর সংক্রান্ত বিভিন্ন ভুল ও সমস্যার বিষয়টি সামনে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফয়েজ তৈয়্যব বলেন, শুরুর দিকে এ ধরনের টেকনিক্যাল জটিলতা থাকা স্বাভাবিক এবং ধীরে ধীরে সব সমস্যার সমাধান করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এই সিস্টেমটি নতুন করে তৈরি করা হয়নি। ২০২১ সালে প্রথম এনইআইআর চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে কিছু ফাংশনাল ফিচার যুক্ত করে এটি এখন কার্যকর করা হয়েছে। এর আগে ভিএপিটি করা হলেও নতুন করে আবারও ভিএপিটি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ সহকারী জানান, বাংলাদেশে একসময় একজন ব্যক্তির একটি এনআইডির বিপরীতে ২০টি এবং পরে ১৫টি পর্যন্ত সিম ব্যবহারের অনুমতি ছিল, যা বর্তমানে কমিয়ে ১০টিতে নামিয়ে আনা হচ্ছে। এ কারণে এনইআইআর ম্যাপিংয়ে হিস্টোরিক ডেটার ভিত্তিতে এনআইডির বিপরীতে বেশি হ্যান্ডসেট দেখানো স্বাভাবিক।
আরও পড়ুনঃ ফুলবাড়ী সীমান্তে দায়িত্ব পালনকালে নিজ অস্ত্রের গুলিতে বিজিবি সদস্য নিহত
ফয়েজ তৈয়্যব বলেন, এনইআইআর ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষ জানতে পারবেন তাদের এনআইডির বিপরীতে কত সিম ও কত ডিভাইস ব্যবহার হয়েছে। এতে সামাজিক সচেতনতা তৈরি হবে। একজন নাগরিকের এনআইডির বিপরীতে নিবন্ধিত সিম বা ডিভাইস ব্যবহার করে মোবাইল ব্যাংকিং কিংবা অনলাইন জুয়াসহ কোনো আর্থিক অপরাধ হচ্ছে কিনা, তা জানা নাগরিকের অধিকার বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ডাটাবেজের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, নিরাপদ ডিজিটাল টোকেন জেডব্লিউটি ব্যবহার করা হচ্ছে, রেট লিমিট নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এখন থেকে ডাটা পেতে এনআইডি নম্বরের বিপরীতে আইএমইআই যাচাই করা হচ্ছে। ১৩, ১৭ ও ১০ ডিজিটের এনআইডির জন্য আলাদা ম্যাপিং রয়েছে। তবে এনআইডি নম্বর জানা থাকলে তথ্য রেসপন্স চলে আসার বিষয়টি নজরে আসায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে অতিরিক্ত একটি সুরক্ষা স্তর যুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।