
ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারাদেশে মোবাইল ব্যবসা–সংক্রান্ত সব দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মোবাইল ব্যবসায়ীরা। মোবাইল আমদানিতে করহার কমানো, এনওসি প্রক্রিয়া সহজীকরণ, আটক ব্যবসায়ীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারসহ একাধিক দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছে মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)।
শুক্রবার দুপুরে সংগঠনটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শামীম মোল্লা গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মোবাইল ব্যবসায়ীদের প্রধান দাবি হলো মোবাইল আমদানির ক্ষেত্রে বিটিআরসি নির্ধারিত মাদার কোম্পানি এনওসি, লোকাল এনওসি ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল এনওসি প্রক্রিয়া সহজ করা এবং করহার সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা।
তাদের দাবি অনুযায়ী, মোবাইল আমদানিতে মোট করহার সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ হওয়া উচিত। পাশাপাশি ব্যবহৃত বা ইউজড মোবাইল ফোন আমদানির জন্য আলাদা নীতিমালা প্রণয়নের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
শামীম মোল্লা দাবি করেন, এনইআইআর চালু হওয়ার পর অনেক গ্রাহকের মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা বিটিআরসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করলেও বৈঠক না হওয়ায় তারা বিকেলে সেখান থেকে বের হয়ে যান। ওই সময় বিটিআরসি ভবনের পূর্ব পাশ থেকে একদল লোক এসে ভাঙচুর শুরু করে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও জানান, ওই ঘটনার পর এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৬ জন ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি ও দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও এই কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুনঃ হাদি হত্যার বিচারঃ ৭ জানুয়ারির পর সরকার পতনের হুঁশিয়ারি
মোবাইল আমদানিতে শুল্ক কমানোর সাম্প্রতিক ঘোষণার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে শামীম মোল্লা বলেন, আগে প্রায় ৬১ শতাংশ কর থাকলেও তা কমিয়ে ৪৩ শতাংশ করা হয়েছে, যা এখনো অত্যধিক। তার দাবি, দেশে অন্য কোনো খাতে এত বেশি কর নেই।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যতদিন পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের দাবি বাস্তবায়ন না হবে এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়া না হবে, ততদিন মোবাইল ব্যবসা–সংক্রান্ত সব দোকান বন্ধ থাকবে। পরবর্তী কর্মসূচি সময়মতো জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, দেশের মোবাইল ফোন বাজারে অবৈধ ও আনঅফিশিয়াল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সরকারের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর)। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত সব ফোনের আইএমইআই নম্বর জাতীয় ডাটাবেইজে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।



