

দিনাজপুর-২ (বিরল–বোচাগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাকের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে কাফনের কাপড় পরে মৌন মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন উপজেলা বিএনপি, অঙ্গসংগঠন এবং স্থানীয় সমর্থকরা।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে বিরল উপজেলা শহরের বকুলতলা মোড়ে ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচিতে অংশ নেন জেলা বিএনপির সহ–সভাপতি ও মনোনয়ন বঞ্চিত নেতা মোজাহারুল ইসলাম, আ.ন.ম বজলুর রশিদ কালু, অধ্যাপক মিজানুর রহমানসহ শতাধিক স্থানীয় নেতা–কর্মী ও সহস্রাধিক মানুষ।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সাদিক রিয়াজ চৌধুরী আওয়ামী লীগের সাবেক প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজন এবং সম্পর্কে ভাতিজা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ঘনিষ্ঠতার কারণে তাঁর নামে কোনও মামলা হয়নি। এমনকি খালিদ মাহমুদ চৌধুরীকে পালিয়ে যেতে সহায়তাও করেছেন তিনি—এমন অভিযোগও তোলেন বক্তারা।
বক্তারা আরও বলেন, মনোনয়ন ঘোষণার পর সাদিক রিয়াজ চৌধুরী আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সতীশ চন্দ্র রায়ের বাড়িতে যান—যা বিএনপির ভোটারদের কাছে অস্বস্তিকর সংকেত তৈরি করেছে। স্থানীয়দের সঙ্গে তাঁর কোনও রাজনৈতিক বা সামাজিক সম্পর্ক নেই বলেও অভিযোগ করেন নেতারা।
আরও পড়ুনঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে—৬৬ দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নিবন্ধন দিল ইসি
মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাদের ভাষ্য, “বিরল উপজেলার ভোটার সংখ্যা বেশি; এখানকার মানুষ সাদিক রিয়াজ চৌধুরীকে চান না। প্রার্থী পরিবর্তন করা হলে বিএনপি জেতার সম্ভাবনা বেশি।”
জেলা বিএনপির সহ–সভাপতি মোজাহারুল ইসলাম বলেন, “আমাদের মধ্যে সমঝোতা ছিল—যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তাকে সবাই সমর্থন দেব। কিন্তু এলাকার মানুষ তাঁকে চান না। কেন্দ্রীয়ভাবে আবারও জরিপ করা হোক, যাচাই করে জনগণের পছন্দের প্রার্থীকে দেওয়া হোক।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মনোনীত প্রার্থী সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমি সতীশ চন্দ্র রায়ের বাড়িতে গিয়েছিলাম মনোনয়ন পাওয়ার দেড়–দুই মাস আগে, শুধুই সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে। তিনি অসুস্থ ছিলেন, আমার বাবার সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। এটা তো রাজনীতির সৌন্দর্যই।”
খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করে বলেন, “তিনি আমাকে নানাভাবে হয়রানি করেছেন, মামলা দিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে আমার সম্পর্ক থাকার প্রশ্নই ওঠে না। আমাকে তারেক রহমান মনোনয়ন দিয়েছেন—আমি সেই দায়িত্ব পালন করছি। যারা আমার বিরুদ্ধে কথা বলছেন, তারা দলের সিদ্ধান্ত মানছেন না।”
দিনাজপুর-২ আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে আসায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থী পরিবর্তন না হলে এই বিরোধ দলের নির্বাচনী মাঠে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।