

বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও অটোগ্যাসের দাম বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি এ সিদ্ধান্তকে জনস্বার্থবিরোধী উল্লেখ করে বলেন, এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এবং শিল্প-কলকারখানার উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, এলপিজি বর্তমানে নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। রান্নার কাজে দেশের বিপুলসংখ্যক পরিবার এই জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে এর মূল্যবৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় না এনে সরকার গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা জনস্বার্থের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের কারণে ভারী ও মাঝারি শিল্প কারখানার উৎপাদন খরচ বাড়বে এবং এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি কেজি এলপিজির দাম একসঙ্গে ৩২ টাকা ৩০ পয়সা বাড়ানো নজিরবিহীন। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৭২৮ টাকা, যা গত মাসে ছিল ১ হাজার ৩৪১ টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ৩৮৭ টাকা। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বৃহস্পতিবার নতুন এ মূল্য ঘোষণা করে, যা সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বেইলি রোড অগ্নিকাণ্ডে ২২ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
তিনি আরও বলেন, অটোগ্যাসের দামও বড় ব্যবধানে বাড়ানো হয়েছে। চলতি এপ্রিল মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে অটোগ্যাসের দাম লিটারপ্রতি ১৭ টাকা ৯৪ পয়সা বাড়িয়ে ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মার্চ মাসে এই দাম ছিল ৬১ টাকা ৮৩ পয়সা। অটোগ্যাসের এমন মূল্যবৃদ্ধি পরিবহন খাতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে এবং যাতায়াত ব্যয় বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ওপর নতুন আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে।
বিবৃতিতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এলপিজি ও অটোগ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে প্রয়োজনীয় আমদানি বৃদ্ধি, উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। জনজীবনকে স্বস্তিদায়ক ও বাড়তি ব্যয়ের চাপমুক্ত রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।