মোঃ আব্দুল আলিম, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের তরুণ ইন্টার্ন চিকিৎসক শীর্ষ শ্রেয়ান দেখিয়েছেন অনন্য দৃষ্টান্ত। মাত্র ইন্টার্নশিপ শুরু করা এই চিকিৎসক আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ডিরেক্ট রিলিফ থেকে নিয়ে এসেছেন প্রায় ১৭ কোটি টাকার জীবনরক্ষাকারী ওষুধ অ্যাল্টেপ্লেস, যা এখন থেকে রামেকে স্ট্রোক ও হৃদ্রোগে আক্রান্ত রোগীরা বিনামূল্যে পাবেন।
অ্যাল্টেপ্লেস এমন এক ইনজেকশন যা জীবন ও মৃত্যুর মাঝে দেয়াল টেনে দিতে পারে। কিন্তু প্রতিটি ভায়ালের দাম প্রায় ৫০ হাজার টাকা হওয়ায় দরিদ্র রোগীদের পক্ষে এটি কেনা প্রায় অসম্ভব। রোগীর ওজন ৬০ কেজির বেশি হলে প্রয়োজন হয় দুই ভায়াল, ফলে হতাশ হয়ে চিকিৎসা ছাড়তে হতো অনেককেই। এবার শীর্ষের প্রচেষ্টায় সেই অসহায় বাস্তবতা বদলেছে।
শীর্ষ শ্রেয়ান পঞ্চম বর্ষের ছাত্র থাকতেই ওয়ার্ল্ড স্ট্রোক অর্গানাইজেশনের একটি গবেষণা দলে যুক্ত হন। তাঁর দক্ষতা ও নিষ্ঠা আন্তর্জাতিক সংস্থার নজরে আসে। পরবর্তীতে ডিরেক্ট রিলিফের পক্ষ থেকে সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। শীর্ষ দ্বিধাহীনভাবে এগিয়ে যান মেন্টর অধ্যাপক ডা. আজিজুল হক আযাদের কাছে। অধ্যাপক আযাদের তত্ত্বাবধানে অনলাইনে শুরু হয় আলোচনা, এবং অবশেষে আনুষ্ঠানিক চুক্তির মাধ্যমে দেশে আসে ২ হাজার ৫০০ ভায়াল অ্যাল্টেপ্লেস।
২৫ আগস্ট রামেকে ওষুধ পৌঁছায় এবং ২৭ আগস্ট থেকে রোগীদের বিনামূল্যে দেওয়া শুরু হয়। প্রথম দিনেই ব্যবহার হয় প্রায় ৭০টি ভায়াল। শীর্ষ নিজেই রোগীদের উদ্দেশে অনুরোধ করে বলেন—“ওষুধ আছে, সুযোগও আছে। কিন্তু রোগীরা যদি দেরি করে আসেন, তাহলে কাজ হবে না। শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়া, মুখ বেঁকে যাওয়া বা কথা জড়িয়ে আসার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে আসতে হবে। সময়ই এখানে সবচেয়ে বড় জীবনরক্ষাকারী।”
আরও পড়ুনঃ ইবির তিন শতাধিক হাফেজে কুরআনকে সংবর্ধনা
তাঁর এই মানবিক উদ্যোগে গর্ব প্রকাশ করেছেন রামেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফ এম শামীম আহাম্মদ ও অধ্যাপক আজিজুল হক আযাদ। অধ্যাপক আযাদ বলেন— “এটা শুধু ওষুধ আনা নয়; অসহায় রোগীদের বেঁচে থাকার সুযোগ এনে দেওয়া। শীর্ষকে নিয়ে আমরা গর্বিত।”
পরিচালক শামীম আহাম্মদ বলেন— “১৭ কোটি টাকার অমূল্য ওষুধ এনে শীর্ষ শুধু রোগীদের নয়, গোটা দেশের তরুণ চিকিৎসকদের জন্য অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছে।”