
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ঢাকা কেন্দ্রিক ক্রিকেটকে গোটা দেশে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল ক্রিকেটার হতে হলে যেন ঢাকাতে আসতে না হয়, নিজ বিভাগেই সীমাবদ্ধ থাকলেও চলে।
সেজন্য তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দেশের ৮ বিভাগেই হবে বিসিবি অফিস। শুধু বিভাগীয় অফিস নয়, আলোচনা করছিলেন আঞ্চলিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের বিষয়েও। কেবল বিভাগেই নয়, বুলবুলের বোর্ড সিদ্ধান্ত নিচ্ছিল সব জেলা স্টেডিয়ামে ক্রিকেট সক্রিয় করার এবং সেসব স্টেডিয়ামে জেলা ভিত্তিক ক্রিকেট লীগ চালু করার।
ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামকে প্রথম স্তরের স্টেডিয়াম ধরে খুলনা, বগুড়া, রাজশাহী, বরিশাল, ফতুল্লাকে দ্বিতীয় স্তরের স্টেডিয়াম হিসেবে প্রস্তুত করার উদ্যোগ হাতে নেন। সারা দেশে ১১টি ক্রিকেট হাব তৈরির পাশাপাশি বুলবুলের বোর্ড ১৩৭টি আন্তর্জাতিক মানের উইকেট তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজও শুরু করেছিল।
তৃণমূল থেকে ক্রিকেটার তুলে আনতে স্কুল ক্রিকেটে আরও সুবিধা বাড়ানো ও আরও কার্যকরী করার পদক্ষেপ নিচ্ছিলেন, শুরু করতে চেয়েছিলেন মাদরাসা ক্রিকেটও। কেবল তৃণমূল কিংবা বয়সভিত্তিক ক্রিকেটেই নয়, ২৩ বছরের কম বয়সী ক্রিকেটারদের নিয়ে ন্যাশনাল ক্রিকেট অ্যাকাডেমি প্রোগ্রাম শুরু করার কথাও ভেবেছিলেন, যারা জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ব্যাকাপ তৈরি করে দেবে।
আরও পড়ুনঃ নানা সমস্যায় জর্জরিত ইবির জিয়া হল, প্রভোস্টের রুমে তালা
বুলবুলের ক্রিকেট বোর্ড বিসিএল ওয়ানডে ফরম্যাট চালু করে এবং জাতীয় লীগে এই ফরম্যাট চালুর কথা ভাবছিল। ফিক্সিং বন্ধে বিশেষ পদক্ষেপ হিসেবে অ্যালেক্স মার্শালকে নিয়োগ করা হয় এই সময়ে। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আরও আম্পায়ার তৈরির জন্য সাইমন টাফেলকে নিয়োগও করেছিলেন।
নিজে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাবেক ক্রিকেটারদের কোচ হিসেবে গড়ে তোলার পদক্ষেপের পাশাপাশি শুরু করেছিলেন ম্যাচ রেফারি কোর্স চালুও। এসব সিদ্ধান্তের বিপরীতে তিনি যেসব কাজে ব্যর্থ হয়েছেন, তাতে বিরোধী সিন্ডিকেটের ব্যাপক ভূমিকা ছিল। বুলবুলকে হটাতেই যে ক্লাবগুলো বিদ্রোহ করেছিল সেটা সবার জানা।
উল্লেখ্য, আইসিসিসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে তিনি গেম ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করেছেন। সেজন্য এই সেক্টরের জন্য তার সিদ্ধান্তগুলো ভালো ছিল। আর ম্যান ম্যানেজমেন্ট নিয়ে খুব বেশি অভিজ্ঞতা না থাকায় এই সেক্টরে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।



