spot_img

― Advertisement ―

spot_img

সীমান্তে রাস্তা নির্মাণ ইস্যুতে বিজিবি–বিএসএফের ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠক

মোঃ বিপুল মিয়া, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের মধ্যে ব্যাটালিয়ন...
প্রচ্ছদফিচারকচুরিপানার মনোমুগ্ধকর ফুলে মুগ্ধ ফুলবাড়ীর মানুষের হৃদয়

কচুরিপানার মনোমুগ্ধকর ফুলে মুগ্ধ ফুলবাড়ীর মানুষের হৃদয়

মোঃ বিপুল মিয়া, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ মিয়া, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের ছড়ারপাড় এলাকায় ফুলবাড়ী–বালারহাট সড়কের পাশের মুক্ত জলাশয়ে ফুটে থাকা কচুরিপানার ফুল এখন স্থানীয়দের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। চোখ মেললেই দিগন্তজুড়ে দেখা যায় বেগুনি–নীলাভ পাপড়ির সারি, মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যে পথচারীদের থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করছে এই দৃশ্য।

স্থানীয়রা জানান, চলতি সময়ে এলাকার প্রায় সব খাল, বিল, ডোবা, পুকুর ও নিম্নাঞ্চলের জলাশয় কচুরিপানা ফুলে ভরে গেছে। কোমলমতি শিশুদের কাছে এটি খেলনার মতোই প্রিয়। আর সৌন্দর্যপ্রেমীরা মোবাইল ফোনে ছবি তুলছেন নানা ভঙ্গিতে; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে উপভোগ করছেন প্রকৃতির এই রূপসৌন্দর্য।

কচুরিপানা পানির উপর ভাসমান বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ, যার আদি নিবাস দক্ষিণ অ্যামেরিকা। চকচকে সবুজ পাতার নিচে ঝুলে থাকা বেগুনি–কালো তন্তুময় মূল এবং ছয় পাপড়ির নরম ফুলের সমাহার একে করে তুলেছে অনন্য।

এই উদ্ভিদ শুধু সৌন্দর্য ছড়ায় না, প্রকৃতিতেও রয়েছে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

স্থানীয়রা জানান, এটি জলাশয়ের পানি ঠান্ডা রাখে, দেশীয় মাছের বংশবিস্তারে সহায়তা করে, কিছু মাছ এটি খাদ্য হিসেবেও গ্রহণ করে, শুকিয়ে জৈব সার তৈরি করা যায়, ভাসমান সবজি চাষে কচুরিপানা দারুণভাবে ব্যবহৃত হয়, এমনকি এটি গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবেও উপকারী।

ছড়ারপাড় এলাকার বাসিন্দা সাইদুল রহমান সাজু ও আব্দুল খালেক বলেন, জলাশয় পরিষ্কার করার পর এসব কচুরিপানা শুকিয়ে রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। গবাদি পশুর খাবার হিসেবেও উপযোগী হওয়ায় এটি গ্রামের মানুষের কাছে বেশ উপকারি।

আরও পড়ুনঃ দিনাজপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী বাতিলের দাবিতে কাফন পরে মৌন মিছিল

ফুল প্রেমী ও শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ আব্দুল হানিফ সরকার জানান, “মুক্ত জলাশয়ে একসঙ্গে অসংখ্য কচুরিপানা ফুল ফুটে থাকার সৌন্দর্য অন্য কোনো ফুলে পাওয়া যায় না। নকশাখচিত পাপড়ির মায়ায় মানুষ সহজেই মুগ্ধ হয়ে পড়ে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. নিলুফা ইয়াছমিন বলেন, কচুরিপানা দিয়ে জৈব সার ও ভাসমান সবজি চাষের সুবিধা পাওয়া যায়, তবে এর দ্রুত বংশবিস্তার অনেক সময় নিম্নাঞ্চলের ধানক্ষেতে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই ফসলের জমিতে এর বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য আর বহুমুখী উপকারিতা গ্রামের মানুষের জীবনযাপনে এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছে। কচুরিপানার ফুল এখন ফুলবাড়ীর প্রকৃতিপ্রেমীদের নতুন আবেগ ও আনন্দের উৎস।