
সায়মা আনান প্রমি, খুবি প্রতিনিধিঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন আলোচনা ও উত্তেজনা বাড়ছে, তেমনি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝেও তৈরি হয়েছে নানা প্রত্যাশা, ভাবনা ও প্রশ্ন। ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তরুণ প্রজন্ম নির্বাচনকে দেখছে শুধু একটি ভোটের দিন হিসেবে নয়, বরং গণতন্ত্রের মান, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুমতাহিনাহ্ মুহু বলেন, তিনি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করেন, যেখানে কোনো ধরনের ভোট চুরি বা নির্দিষ্ট দলের আধিপত্য থাকবে না এবং ভোটাররা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। গণভোটের পক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি, কারণ অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না বা পরিষ্কারভাবে বোঝেন না। একই ব্যক্তি যেন দুই বারের বেশি ক্ষমতায় থাকতে না পারেন—এমন বিধান চালু হলে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার প্রবণতা কমবে এবং জনপ্রতিনিধিরা জনকল্যাণে আরও মনোযোগী হবেন বলেও তিনি মত দেন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সঞ্চিতা সরকার বলেন, তার প্রত্যাশা একটি স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন। তিনি মনে করেন, ভোটের মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত হওয়াই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। রাজনীতি যেন সহিংসতা ও বিভাজনের পথে না গিয়ে উন্নয়ন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক বিষয়কে অগ্রাধিকার দেয়—এমন আকাঙ্ক্ষাও ব্যক্ত করেন তিনি। তার মতে, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, আর একটি সঠিক নির্বাচনই পারে দেশের ভবিষ্যৎকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে।
আরও পড়ুনঃ ইবিতে হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানজানা আফরিন সানাম বলেন, জাতীয় নির্বাচন শুধু ক্ষমতা পরিবর্তনের বিষয় নয়; এটি দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের একটি বড় সুযোগ। তিনি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, যেখানে জনগণের ভোটাধিকার পুরোপুরি সম্মানিত হবে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দিতে চায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সহিংসতার পরিবর্তে যুক্তি, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী তানিম মল্লিক বলেন, জাতীয় নির্বাচন মানে শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং এটি দেশের গণতন্ত্র কতটা শক্তিশালী—তা যাচাইয়ের একটি বড় সুযোগ। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা এমন একটি পরিবেশ প্রত্যাশা করে, যেখানে মানুষ ভয়মুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবে এবং ভোটের ফলাফলে জনগণের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ, সহিংসতা ও বিভাজনের রাজনীতি পরিহারের আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচনই দেশকে স্থিতিশীল রাখতে পারে এবং তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী করে তুলতে সক্ষম।



