spot_img

― Advertisement ―

spot_img

পবিত্র শবে বরাতঃ ক্ষমা, রহমত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী

ফিচার ডেস্কঃ হিজরি সনের শাবান মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখের মধ্যবর্তী রাত মুসলমানদের কাছে পবিত্র শবে বরাত হিসেবে পরিচিত। ‘শবে বরাত’ শব্দের অর্থ হলো...
প্রচ্ছদইসলাম ও জীবন ব্যবস্থাপবিত্র শবে বরাতঃ ক্ষমা, রহমত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী

পবিত্র শবে বরাতঃ ক্ষমা, রহমত ও আত্মশুদ্ধির মহিমান্বিত রজনী

ফিচার ডেস্কঃ হিজরি সনের শাবান মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখের মধ্যবর্তী রাত মুসলমানদের কাছে পবিত্র শবে বরাত হিসেবে পরিচিত। ‘শবে বরাত’ শব্দের অর্থ হলো মুক্তির রজনী।

ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রাতে মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমত বর্ষণ করেন এবং অসংখ্য মানুষকে ক্ষমা করে দেন। তাই শবে বরাত মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যবহ একটি রাত।

হাদিসে বর্ণিত আছে, শবে বরাতের রাতে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করে বলেন, “কে আছে ক্ষমা প্রার্থনাকারী, আমি তাকে ক্ষমা করব; কে আছে রিজিক প্রার্থনাকারী, আমি তাকে রিজিক দান করব।”

এই রাতে আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক, বিদ্বেষ পোষণকারী ও জুলুমে লিপ্তদের ছাড়া অধিকাংশ বান্দাকে ক্ষমা করে দেন বলে বিভিন্ন হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। এ কারণেই এ রাতকে রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের রাত বলা হয়।

পবিত্র শবে বরাতের অন্যতম ফজিলত হলো আত্মশুদ্ধির সুযোগ। মানুষ সারা বছরে যেসব ভুল, গুনাহ ও অন্যায় করে থাকে, এই রাতে তওবা ও ইস্তেগফারের মাধ্যমে সেগুলো থেকে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। আল্লাহর নৈকট্য লাভ, আত্মসমালোচনা এবং ভবিষ্যতে সঠিক পথে চলার দৃঢ় অঙ্গীকার করার জন্য এ রাত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

শবে বরাতে করণীয় আমলের মধ্যে অন্যতম হলো বেশি বেশি নফল নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার, দরুদ পাঠ ও দোয়া করা। এ রাতে নিজের গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং মা-বাবা, পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। পাশাপাশি অসহায় ও দরিদ্রদের সহায়তা করা, দান-সদকা করা এবং মানবকল্যাণমূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত করাও শবে বরাতের গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত।

আরও পড়ুনঃ শবে বরাতকে রহমত লাভের সুযোগ হিসেবে গ্রহণের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

ইসলামি চিন্তাবিদরা মনে করেন, শবে বরাতের প্রকৃত শিক্ষা হলো আত্মসংযম ও নৈতিক শুদ্ধতা অর্জন। শুধু আনুষ্ঠানিক ইবাদতে সীমাবদ্ধ না থেকে অন্যায়, অবিচার, হিংসা ও বিদ্বেষ পরিহার করে মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক জীবনযাপন করার অঙ্গীকার করাই এ রাতের মূল বার্তা।

সর্বোপরি, পবিত্র শবে বরাত মুসলমানদের জন্য আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা লাভের এক বিরল সুযোগ। এই মহিমান্বিত রাতকে যথাযথ মর্যাদায় পালন করে ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ অর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় চিন্তাবিদরা।