
তাওহিদ ইসলাম, ইবি প্রতিনিধিঃ আগামী ১ আগস্ট গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ হ ম এহছানুল হক মিলনের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) সফরকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে থাকা জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচিহ্ন ও গ্রাফিতি সংরক্ষণ এবং নতুন স্মৃতিফলক নির্মাণের পরিকল্পনা ঘিরে ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জুলাইয়ের বিদ্যমান স্মৃতি মুছে ফেলা হবে—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, কোনো স্মৃতি অপসারণ নয়; বরং সংরক্ষণ করেই নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধান ফটকের জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচিহ্ন ও গ্রাফিতির ভবিষ্যৎ নিয়ে মতামত জানতে প্রক্টরিয়াল বডি দুই দফায় ক্যাম্পাসের সক্রিয় ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে শাখা ছাত্রদল ও ছাত্র ইউনিয়ন স্মৃতিগুলো সংরক্ষণ করে প্রধান ফটক সংস্কারের পক্ষে মত দেয়। অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্রশিবির ও জাতীয় ছাত্রশক্তি বিদ্যমান অবস্থায় জুলাইয়ের স্মৃতিচিহ্নে কোনো পরিবর্তনের বিরোধিতা করে। পরে জাতীয় ছাত্রশক্তির সঙ্গে পৃথক বৈঠকেও তারা একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে।
জাতীয় ছাত্রশক্তি ইবি শাখার আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় স্টেকহোল্ডার সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কোনো সীমিত পরিসরের বৈঠকের মাধ্যমে জুলাইয়ের চেতনা ক্ষুণ্ন হোক, আমরা তা চাই না। জুলাই মাসেই জুলাইয়ের স্মৃতি পরিবর্তনের উদ্যোগ প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।”
শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নুর আলম বলেন, “জুলাইয়ের স্মৃতিচিহ্ন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে প্রধান ফটক সংস্কার করা যেতে পারে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের দেয়ালগুলো পরিষ্কার করে সেখানে জুলাইয়ের গ্রাফিতি ও লেখাগুলো প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা উচিত।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শাখা আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, “জুলাই মাসে জুলাইয়ের স্মৃতি মুছে ফেলা যাবে না। আগে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ বাস্তবায়ন করতে হবে। এরপর স্মৃতিগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা যেতে পারে।”
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, “শহীদদের রক্তস্নাত জুলাইয়ের স্মৃতিচিহ্ন ও দেয়ালচিত্র মুছে ফেলার পক্ষে আমরা কোনোভাবেই নই। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট, ডিজিটাল সেবা, সার্টিফিকেট উত্তোলনের ভোগান্তিসহ নানা সমস্যা থাকলেও প্রশাসন এ বিষয়ে তেমন উদ্যোগ নিচ্ছে না। অথচ জুলাইয়ের স্মৃতি পরিবর্তনের বিষয়টি অগ্রাধিকার পাচ্ছে, যা হতাশাজনক।”
আরও পড়ুনঃ ফুলবাড়ী উপজেলা জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি রাকিব, সম্পাদক আরিফ
অন্যদিকে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, “প্রশাসনের পরিকল্পনার সঙ্গে আমরা একমত হয়েছি। প্রশাসন জানিয়েছে, জুলাইয়ের স্মৃতিগুলো সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি প্রধান ফটকে থাকা ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্লোগানও অপসারণের দাবি জানিয়েছি।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, “জুলাই গ্রাফিতি ও স্মৃতি অপসারণের বিষয়ে যে প্রচার চলছে, তা বিভ্রান্তিকর। এ ধরনের কোনো নির্দেশনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দেয়নি। আমরা জুলাইয়ের গ্রাফিতি সংরক্ষণেই কাজ করছি। ‘মুছে ফেলা’ শব্দটি এখানে অযাচিত ও অপকৌশল।”
তিনি আরও জানান, শিক্ষামন্ত্রীর সফর উপলক্ষে ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং জুলাই স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই সংগ্রহশালা পুনরায় চালু, প্রধান ফটকের বিদ্যমান জুলাই গ্রাফিতি সংরক্ষণ এবং একই আদলে নতুন একটি স্মারক গেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া জুলাইয়ের স্মৃতি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য স্মৃতিফলক ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।



