
মোঃ বিপুল মিয়া, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় কেন্দ্র সচিবসহ চারজনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্র সচিবকে শোকজ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৬ পরীক্ষার্থীকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দিয়ে পুনরায় সঠিক প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে পাঁচটি কলেজের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেয়। ওইদিন ইসলামের ইতিহাস, ইতিহাস, ব্যবস্থাপনা ও পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
ইতিহাস বিভাগের পরীক্ষার্থীরা ৮ নম্বর কক্ষে পরীক্ষায় অংশ নেন। সেখানে ১৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পুরোনো ও চলতি বছরের পরীক্ষার্থী ছিলেন। পরীক্ষার শুরুতে ইতিহাস বিষয়ের নির্ধারিত প্রশ্নের পরিবর্তে ২০২৫ সালের পুরোনো প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয় এবং তারা পরীক্ষা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
পরে কর্তৃপক্ষ পুনরায় সঠিক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। কেন্দ্রের অন্য পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত ১৬ শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দিয়ে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়।
ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলারা আক্তার কেন্দ্র সচিব ও কলেজের অধ্যক্ষ ওয়াদুদ আলীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে শোকজ করেন। এছাড়া কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা প্রভাষক কুদ্দুস আলী ও আশিকা প্রেয়ারী এবং প্রশাসনের মনোনীত দুই ইনভিজিলেটর (ট্যাগ অফিসার) হাসান আলী ও রফিকুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুনঃ জবিতে গ্রীন লাইফ ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের যৌথ উদ্যোগে বৃক্ষমেলা
পরীক্ষার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে কলেজের ভাইস-প্রিন্সিপালকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কলেজের উপাধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্র সচিব আসাদুজ্জামান সরকার লিটু বলেন, “আমি ছুটিতে ছিলাম। শুনেছি ভুলবশত ইতিহাস বিভাগের পুরোনো প্রশ্ন দেওয়া হয়েছিল। পরে সুষ্ঠুভাবে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।”
অধ্যক্ষ ওয়াদুদ আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “শারীরিক সমস্যার কারণে আমি পরীক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছি।” তবে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা আক্তার বলেন, “বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করার পর পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে কেন্দ্র সচিবকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুইজন কক্ষ পরিদর্শক ও দুইজন ইনভিজিলেটরকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অধ্যক্ষ ওয়াদুদ আলীকে শোকজ করা হয়েছে।”



