― Advertisement ―

spot_img
প্রচ্ছদশিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গনক্যাম্পাসচাকরিতে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে ইবিতে বিক্ষোভ

চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে ইবিতে বিক্ষোভ

তাওহিদ ইসলাম, ইবি প্রতিনিধিঃ সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারী নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো এবং লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর কমিয়ে বিধিমালা পরিবর্তনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পরে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।

বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘জেগেছে রে জেগেছে, ইবিয়ানরা জেগেছে’, ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘কোটা গেছে যে পথে, ভাইভা যাবে সেই পথে’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, মামা-খালুর বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘ভাইবার নামে বাণিজ্য চলবে না’, ‘দোয়েল কোয়েল ময়না টিয়া, ভাইবায় আইসো টাকা নিয়া’, ‘ভিক্ষা লাগলে ভিক্ষা নে, মেধাবীদের মুক্তি দে’ এবং ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছে। তাদের অভিযোগ, বর্তমানে সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আবারও বৈষম্য ও স্বজনপ্রীতির সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

সরকারি চাকরির ভাইভা বোর্ড, এনটিআরসিএসহ বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বৈষম্য ও স্বজনপ্রীতির যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো বন্ধ করার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের পদত্যাগ এবং শাস্তির আওতায় আনার দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক নাহিদ ইসলাম বলেন, “সরকার ক্ষমতায় আসার পর একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে এনটিআরসির অধীনে নিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার পর এখন সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমরা মনে করি, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মেধাবীদের বঞ্চিত করে দলীয় ও স্বজনপ্রীতির সুযোগ তৈরি করা হবে। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর এমন বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। অবিলম্বে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় ক্যাম্পাসগুলোতে গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”

আরও পড়ুনঃ জবির ফার্মেসি বিভাগে নবীন বরণ ও বিদায়, আধুনিকায়িত ল্যাবের উদ্বোধন

শাখা ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখার সভাপতি ইসমাইল রাহাত বলেন, “গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থী-জনতা যে বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে, তার বিরুদ্ধে গিয়ে সরকার কোনো আইন করবে—এটা আমরা চাই না। সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তের আমরা বিরোধিতা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “ভাইভায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও অর্থের প্রভাব বন্ধ করে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।”

ইসমাইল রাহাত বলেন, “আমরা সরকারবিরোধী নই, শিক্ষার্থীরা সরকারের শক্তি ও সহযোগী। কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যেন অর্থের অভাবে চাকরি থেকে বঞ্চিত না হয়, সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে।”

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।